বাংলাদেশের ক্রিকেটের দায়িত্বে ছিলেন তিনি একসময়। ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার কোচিংয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা শক্ত করতে শুরু করে বাংলাদেশ। তিনি ডেভ হোয়াটমোর। তাঁর সময়েই টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আসে স্মরণীয় কিছু জয়। প্রায় দুই দশক পর সেই হোয়াটমোর এবার প্রতিপক্ষের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দেখছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়া ক্রিকেটের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ও জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকা এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ দল নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ সফরে। সফরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ‘এ’ দল ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বিপক্ষে সিরিজ খেলছে। পুরোনো পরিচিত বাংলাদেশে ফিরে তাই এবার কোচ হিসেবে নয়, প্রতিপক্ষ দলের দায়িত্বে থেকেই দেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন হোয়াটমোর। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার সেই পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ থাকলেও হোয়াটমোর মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হোয়াটমোর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আসন্ন সিরিজ নিয়ে কথা বলেন, ‘সবাই আশা করছে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের মতো পারফরম্যান্স নিশ্চয়ই কেউ চাইবে না। সেটি পরিকল্পনায় ছিল না। প্রথম ইনিংসে মিরাজ ভালো খেলেছে, সেঞ্চুরিও করেছে। আপনি যত বেশি ভিন্ন কন্ডিশনে খেলবেন, ততই সেসব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন। তাই আরও অনুশীলন প্রয়োজন। আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ হলে ভালো হতো। তবে তারা কঠোর অনুশীলন করবে এবং শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে।’ এদিকে চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া নাহিদ রানাকেও মনে পড়ছে হোয়াটমোরের। বাংলাদেশের এই তরুণ পেসারকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘নাহিদ ভালো খেলোয়াড়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ফিরে আসার আগে তাকে শতভাগ ফিট হতে হবে।’ বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সামপ্রতিক উন্নতিতেও মুগ্ধ হোয়াটমোর। তার মতে, শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটেই তরুণ পেসার তৈরির প্রবণতা বেড়েছে, ‘বাংলাদেশের পেসাররা ভালো করছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানে সবসময়ই ভালো পেসার উঠে এসেছে। এই অঞ্চলে তরুণ ও ভালো ফাস্ট বোলার তৈরির একটা ধারাই রয়েছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।’












