বন্যায় প্রাণিসম্পদে বড় ধাক্কা

চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১০ লক্ষাধিক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে লক্ষাধিক, ক্ষতি ২৮ কোটি টাকা

মোরশেদ তালুকদার | সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা খেয়েছে চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ খাত। অপূরণীয় ক্ষতি হলো সেক্টরটির। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ১০ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৫৫টি গরুছাগলসহ গবাদিপশু এবং হাঁসমুরগি বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে লক্ষাধিক। এছাড়া ৮৫টি গবাদিপশু ও হাঁসমুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ১১৮ টন হাঁসমুরগির খাবার এবং ১৭ হাজার ৮৪০ টন পশুখাদ্য। সব মিলিয়ে বন্যায় চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ খাতের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫০০ মুরগি ও ১৫ হাজার ৬০০ হাঁস। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৩৯৫টি মুরগি ও ১ হাজার হাঁস মারা গেছে। এছাড়া আক্রান্ত গবাদিপশুর মধ্যে রয়েছে ৮০ হাজার ৩২০টি গরু, ৩২৫টি মহিষ, ৬০ হাজার ৫০০টি ছাগল ও ১০ হাজার ৩১০টি ভেড়া। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল ও ৪০টি ভেড়া। এদিকে বন্যায় ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকার হাঁসমুরগির খাবার নষ্ট হয়েছে। এ তালিকায় আছে পশুখাদ্যও। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের ১১ হাজার ৭৬০ টন খড় ও ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৮০ টন ঘাস নষ্ট হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর আজাদীকে বলেন, বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ তা আরো বাড়বে। অনেকের মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে। গরুঘর নষ্ট হয়েছে। গরুছাগলের খাবার নষ্ট হয়েছে। অনেক খামারি জানিয়েছেন তারা দুধ বেচতে পারছেন না। আবার দুধ উৎপাদনও কমে গেছে।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত লোকজনের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু গরুছাগলকে তো খাবার দেওয়া হচ্ছে না বা মানুষের মতো যত্ন নেওয়া হচ্ছে না। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে গরু আছে, সেখানে মানুষের খাবার নিয়ে কথা বললেও গরুর খাবারের বিষয়ে কেউ বলছে না। মন্ত্রী মহোদয় সার্কিট হাউসে মিটিং করেছেন, সেখানে বলেছি মানুষকে যেভাবে খাবার দিচ্ছে, গরুছাগলকেও সেভাবে দেওয়া হোক।

বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বন্যা পরবর্তীতে যে পুনর্বাসন হবে সেখানে যেন খামারিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ৮৫ খামার : বন্যায় ৬০টি গবাদি পশু ও ২৫টি হাঁসমুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলার ২২টি, সাতকানিয়া উপজেলায় ১৫টি ও পটিয়া উপজেলায় ২০টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এছাড়া সন্দ্বীপ ও আনোয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ ও লোহাগড়ায় ২টি করে ও হাটহাজারীতে ৩টি গবাদিপশুর খামার রয়েছে।

হাঁসমুরগির খামারের মধ্যে বাঁশখালীতে ৭টি, সাতকানিয়ায় ৬টি, ফটিকছড়িতে ৪টি, হাটহাজারী ও চন্দনাইশে ৩টি করে, কর্ণফুলীতে ২টি হাঁসমুরগির খামার রয়েছে।

এদিকে বাঁশখালীতে ১২ হাজার ৫১০টি গরু, ৮ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ১ লক্ষ ৫৫ মুরগি আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ১২টি গরু, ৩৯টি ছাগল ও ২০ হাজার ২০০টি মুরগি মারা গেছে। সাতকানিয়ায় ১১ হাজার ৯৮০টি গরু, ৯ হাজার ৬৫০টি ছাগল আক্রান্ত হয়। মারা যায় ৮টি গরু ও ৩৯টি ছাগল। এছাড়া সন্দ্বীপে ৩টি গরু, আনোয়ারায় ৪টি গরু, হাটহাজারীতে ৩টি গরু, কর্ণফুলীতে ২টি গরু, পটিয়ায় ২টি গরু ও মীরসরাইয়ে ১টি গরু মারা গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই বছরে বন্দরে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে রেকর্ড
পরবর্তী নিবন্ধআর মাত্র দুটি ম্যাচ : আলভারেস