বন্দরে তামাক, সন্দেহজনক পাউডার ও স্ক্র্যাপ পেপারের চালান জব্দ

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আসা পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। বন্দরের পণ্য কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ, প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে দুটি হাউজ বিল অব ল্যান্ডিং বা বি/ এল এর আওতায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া যায়।

আমদানিতে নথিতে পণ্যের আমদানিকারক দেখানো হয়েছে অথৈ এন্টারপ্রাইজকে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারির দাবি, তিনি আমদানির বিষয়ে কিছুই জানেন না। চালানটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও এনবিআরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি–সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালান দুটি এনেছে। প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

তবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করছি, ভারত থেকে আনা তামাকজাত পণ্য আমদানিতে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’ জড়িত ছিল। কারণ আমদানিকারকের সম্মতি ছাড়া কোনো পণ্য আমদানি করার সুযোগ নেই। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি হয়তো কমিশনের ভিত্তিতে এ পণ্য আমদানিতে সাড়া দেয়। তবে পরে কমিশন বা অন্য কোনো ঝামেলার কারণে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি চালানটির তথ্য শুল্ক গোয়েন্দাকে জানিয়ে দেয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এমভি উদ্দিপন এঙপ্রেস জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বি/এল এর দুটি হাউজ বি/এল এর মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়। প্রথম হাউজ বি/এল এ পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘পান মশলা এবং জর্দা’। এতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি দেখানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডার্ক ব্রাউন রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, ব্রাউন রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, গ্রে রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে। এছাড়া কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় এসব সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এসব পদার্থে মাদকদ্রব্য বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই পদার্থগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় হাউজ বি/ এল এ পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় এসব প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমিরাবাদে ডেভিড জিহাদ গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধ‘কিশোর অপরাধ’ বিরোধী অভিযান, চট্টগ্রামে এক রাতে আটক ৩৫৪