‘কিশোর অপরাধ’ বিরোধী অভিযান, চট্টগ্রামে এক রাতে আটক ৩৫৪

যাচাই-বাছাই শেষে ২৯৩ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকায় আটক আরও ৯১

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে জেলা পুলিশ গত রোববার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে ৩৫৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২৯৩ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই কিশোরদের আটক করা হয়। জেলার বিভিন্ন থানার বিভিন্ন পাড়া–মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আটক কিশোরদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই–বাছাই করা হয়। আটক কিশোরদের মধ্যে ৬১ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, এর বাইরে মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

অভিযানে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই–বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে অভিযানে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে আসছে কি না এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য অভিভাবকদের ব্রিফ করা হয়। পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, সন্ধ্যার পর কোনো কিশোরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন, মাঠ বা অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, মোবাইল গেমিংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিভাবকদেরও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে কী করছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের অবশ্যই নজর রাখতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এ কার্যক্রমে অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দরে তামাক, সন্দেহজনক পাউডার ও স্ক্র্যাপ পেপারের চালান জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে বিজিবির কাছ থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ