নগরের ফয়’স লেক এলাকার আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে ফয়’স লেকের চিড়িয়াখানার গেটসংলগ্ন বাম পাশে ‘রয়েল পার্ক’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের চারতলার কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মো. রিপন (৪৬) ও সোনিয়া আক্তার (৩০)। তাদের মধ্যে রিপনের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খাটে শোয়ানো অবস্থায় ছিল সোনিয়ার লাশ। পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতরা গত রোববার বিকেলে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলের চারতলার কক্ষটিতে ওঠেন। রাত নয়টার দিকেও হোটেলের এক কর্মী ওই কক্ষে পানি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। রাতে তাদের একসাথে খাওয়া দাওয়া করতে দেখা গেছে। এই সময় ওই দম্পতি তাকে (হোটেল কর্মী) বলেন, সকাল সাতটায় যাতে তাদের ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকালে তাদের ঘুম থেকে ডাকতে গিয়ে হোটেলের ওই কর্মী দেখতে পান কক্ষের দরজা খোলা। ভেতরে রিপনের লাশ ফ্যানে ঝুলছে এবং খাটে শোয়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে সোনিয়ার লাশ। সোনিয়ার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, রিপন ও সোনিয়া দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিষয়টি নিয়ে দুজনেই পারিবারিক নানা সমস্যায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে দরজা খোলা থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ দুটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ ওমর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার বিকালে রিপন ও সোনিয়া ওই হোটেলে রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। তারা স্বামী–স্ত্রী। রাতে তারা একসাথে খাওয়া দাওয়া করতে হোটেলের কর্মচারীরা দেখেছেন। খবর পেয়ে তাদের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে এসেছেন।
খবর শুনে রিপনের বাবা নিয়াজ আলী ও মা শাহারা খাতুন এবং সোনিয়ার ভাই শামীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হোটেল থেকে তারা লাশের সঙ্গে চমেক হাসপাতালে যান।
সোনিয়ার ভাই শামীম আজাদীকে জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দেড় বছর আগে রিপন এবং তার বোন সোনিয়া কোর্টে গিয়ে বিয়ে করে। সোনিয়ার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরের ১২ বছরের এক ছেলে এবং ৯ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের সাথে রাবেয়া রহমান লেইন থাকেন। আমাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া। রিপনের গ্রামের বাড়িও ব্রাক্ষণবাড়িয়া নবীনগর। তারা সবাই আসকারদিঘির পাড়ে থাকেন। সেখানে ব্যবসা করেন। রিপনের বাবা আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় হোটেলের ব্যবসা করেন। রিপনেরও আলাদা চা–নাস্তা এবং ভাতের হোটেল রয়েছে। তার ভাইয়েরাও ব্যবসা করেন।
মৃত্যুর ঘটনায় মামলার ব্যাপারে সোনিয়ার ভাই শামীম জানান, আমি মামলা করিনি। আকবর শাহ থানা পুলিশ আমাদেরকে ডেকেছিল। থানায় আমরা দুই পক্ষের সবাই গেছি। ওরা নিজেরা আত্মহত্যা করেছে; আর কি মামলা করবো! ওরা কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়ে করার কারণে পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ছিল। এজন্য নিজেরা আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ বলেছেন, উনারা তদন্ত করছেন। আমাকে এবং রিপনের বাবাকে পরবর্তীতে আবার ডাকবে। আমরা লাশ নিয়ে এসেছি। রিপনকে তারা চৈতন্যগলিতে দাফন করেছে। আমার বোনকে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় দাফন করবো।
রিপনের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রিপনের বাবা নিয়াজ আলী প্রায় ৪০–৪৫ বছর ধরে আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় থাকেন এবং ব্যবসা করেন। তারা ৯ ভাই–বোন। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজে পছন্দ করে বাইরে বিয়ে করায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এই বিয়ে মেনে নেয়নি। এই নিয়ে রিপন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
আকবর শাহ থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলামত সংগ্রহ করেছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ওই ফ্লোরে (চারতলায়) কোনো সিসিটিভি নেই। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।












