চট্টগ্রামের আয়তনে বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভেঙে অবশেষে গঠিত হলো নতুন প্রশাসনিক ইউনিট ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’। গতকাল ৮ জুলাই এই নতুন উপজেলার আনুষ্ঠানিক সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। গেজেটে নবগঠিত এই উপজেলার স্থায়ী সদর দপ্তর করা হয়েছে ভূজপুর ইউনিয়নের ভূজপুর থানা সংলগ্ন পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চলীয় ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন ঘটল। ফটিকছড়ির উত্তর অঞ্চলের ভৌগোলিক বিশালতা বিবেচনা করে এবং জনসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার আওতাভুক্ত ৬টি ইউনিয়ন হলো– বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি এবং সুয়াবিল।
সদর দপ্তর ভূজপুর থানার পাশে নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় ভূজপুর, হারুয়ালছড়িসহ সংলগ্ন এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। তারা জানান, নতুন উপজেলা ও সদর দপ্তর সশরীরে কাছাকাছি হওয়ায় এখন থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে জমিজমা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি দাপ্তরিক কাজের জন্য দূরবর্তী ফটিকছড়ি সদরে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।
বৃহৎ ফটিকছড়ি উপজেলাকে একক প্রশাসনিক কাঠামোয় দেখভাল করা এতদিন বেশ দুরূহ ছিল। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, নতুন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নাগরিক সেবা প্রাপ্তি অত্যন্ত সহজ হবে। দ্রুতই এই নতুন উপজেলার প্রশাসনিক অবকাঠামো ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিশেষ অবদানের জন্য ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন এবং হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।












