প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবলের নীতিমালা প্রকাশ

চার স্তরের প্রতিযোগিতা ৯ আগস্ট শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ২৯ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ আগামী ৯ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওইদিন রোববার চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন। গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, মেধাবী ফুটবলার নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে প্রতিযোগিতার নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মাউশির নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণপূর্বক সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের অগ্রায়ণপত্রসহ গঠিত ফুটবল টিম গঠন করে আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট জমা দিতে হবে। প্রতিযোগিতার ফরম ও কাগজপত্রের ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ে বলা হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ী দলের সকল কাগজপত্র জেলা পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দলের কাগজপত্র অঞ্চল পর্যায়ে এবং অঞ্চল পর্যায়ের বিজয়ী দলের যাবতীয় কাগজপত্র জাতীয় পর্যায়ে পাঠাতে হবে। প্রতিযোগিতার নীতিমালা, সময়সূচি এবং রেজিস্ট্রেশন ফরমসহ যাবতীয় তথ্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (িি.িফংযব.মড়া.নফ) প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশজুড়ে চারটি স্তরেউপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল এবং জাতীয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নীতিমালার আওতায় মাধ্যমিক ও সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আলাদা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিবন্ধিত সকল সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং প্রতিষ্ঠান মনোনীত ২ জন কর্মকর্তা (ম্যানেজার ও কোচ) সহ মোট ১৮ জন সদস্য থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে একজন নারী শিক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায় ও ফিকশ্চার : জাতীয় পর্যায়ে মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করবে (মাধ্যমিক পর্যায়ে বালকবালিকা ১৬টি এবং কলেজ পর্যায়ে বালকবালিকা ১৬টি)। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ শিক্ষা অঞ্চল থেকে একটি করে এবং কুমিল্লা ও সিলেট শিক্ষা অঞ্চল থেকে যৌথভাবে ১টি দল নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। নকআউট পদ্ধতিতে ৯০ মিনিটের খেলায় অমিমাংসিত ফলাফল এলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম বা অবৈধ/বহিরাগত খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করলে শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাতানো খেলায় জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার করা যাবে। এছাড়া রেফারি বা সহকারী রেফারিকে লাঞ্ছিত করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং আপিল উপকমিটির মাধ্যমে অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে ট্রফি, মেডেল, সার্টিফিকেট ও নগদ আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্টেডিয়ামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন সিটি মেয়রের
পরবর্তী নিবন্ধইনডোর ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিও একাডেমি চ্যাম্পিয়ন