প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন চট্টগ্রামবাসী

অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে

| রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি থেকে বাঁশখালী উপজেলায় যাবেন। সেখান থেকে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে এ সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে প্রশাসন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ আগস্ট একদিনের সফরে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, আমদানিরপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং শিল্পবাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নগরী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এখানে উল্লেখ করতে পারি, দুই দশক আগে থেকে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের দাবি ওঠে। বিএনপি সরকার ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি এসংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করে। তাতে ১৬টি কর্মসূচি ছিল। মন্ত্রিসভার ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেকোনো একটি ব্যাংক বা বীমা কোম্পানির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষা, প্রশাসনিক, যোগাযোগ, পর্যটন, বন্দরসহ যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক দপ্তর চট্টগ্রামে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এসব সিদ্ধান্তের কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি।

দাবি ও আশ্বাসের মধ্যে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স ইস্যু, নবায়ন, কাঁচামাল আমদানির অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ বন্ড কমিশনারেটের অফিস চালু করা হয়েছে ২০১১ সালে। আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম চেম্বারের বাণিজ্য নগরের প্রতীক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চালু হয়েছে ২০১৬ সালে। এ ছাড়া ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, রেল যোগাযোগ সুবিধা উন্নীতকরণ, চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

সরকার চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল, টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে দুটো বিষয় অগ্রাধিকার দিতে হবেচট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের নৌ, আকাশ, সড়ক ও রেলপথের সংযোগ আরও উন্নত করতে হবে। আর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। তাহলে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নের স্বপ্ন পূরণ হবে।

এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, চট্টগ্রামে কোনো উদ্যোক্তা ব্যবসাবাণিজ্য বা শিল্পকারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাঁকে বারবার ঢাকায় ছুটে যেতে হয়। ব্যাংকঋণ থেকে শুরু করে আমদানিরপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুমোদনের জন্য ব্যবসায়ীদের এই দৌড় এখনো থামেনি। দেশে ৫৯টি ব্যাংকের কার্যক্রম থাকলেও একটিরও প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে নেই।

খাদ্যশস্যসহ উদ্ভিজ্জাত পণ্য আমদানি করতে হলে ব্যাংকে ঋণপত্র খোলার আগে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের আমদানি ছাড়পত্র (আইপি) নিতে হয়। এটি একবার চট্টগ্রামে, আবার ঢাকায়এভাবেই চলছে।

আমদানিরপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ৫৫টি সেবা দেওয়া হয়। এসব সেবার মধ্যে বেশিরভাগই ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে নিতে হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ ২৮ ধরনের পণ্যের আমদানি ও রপ্তানির অনুমতির জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হয় ব্যবসায়ীদের। শিল্পকারখানায় বয়লার বসানোর আগে আমদানির ছাড়পত্র কিংবা বয়লারের নিবন্ধন পেতে হলেও ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। চট্টগ্রামে কার্যালয় থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদন হয় ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে। পণ্য রপ্তানির আগে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে নিবন্ধন নিতে হয়। চট্টগ্রামে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যালয় এসংক্রান্ত যাচাইবাছাই কাজ করলেও নতুন নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হয় ঢাকা থেকে।

তাই ঘোষণা দিয়ে নয়, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন চট্টগ্রামবাসী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে