বিশ্বকাপে দাপুটে ফুটবল খেলা অব্যাহত রয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২–০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যাওয়া এই দলকে আটকানো বেশ মুশকিলের কাজ হতে চলেছে। অঘটন না হলে, আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারে ফ্রান্স। তাদের ময়দানি পারফরমেন্স তাই বলছে। তার জন্য অবশ্য সেমিফাইনালে স্পেনের মতো কঠিন বাধা পেরোতে হতে পারে। সেই বাধা টপকে গেলে ফ্রান্সকে ট্রফি জয় থেকে আটকানো মুশকিল। আর দলটির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তাদের দলনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার আগ্রাসী ভূমিকা ফ্রান্সকে একের পর এক জয় এনে দিচ্ছে।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ফ্রান্স জিতেছিল ২–০ গোলে। এ বারও ম্যাচের ফল ঠিক তাই হলো। তবে গত বার যে দুজন গোল করেছিলেন, তারা স্কোরশিটে নেই। প্রথম জন লুকাস হের্নান্দেজ ছিলেন বেঞ্চে। আর রান্ডাল কোলো মুয়ানিকে তো বিশ্বকাপেই নেওয়া হয়নি।
কিন্তু যে দলে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো ফুটবলার রয়েছেন তাদের অতো চিন্তা করতে হয় কি! এ দিন তিনি পেনাল্টি মিস করেছেন। কিন্তু তাতে হতোদ্যাম হননি। দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ পেয়েই মনে রাখার মতো অনবদ্য গোল করে বসেন।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলছিল দুই দলই। তবে মরক্কোর থেকে ফ্রান্সের আক্রমণের ঝাঁঝ ছিল বেশি। চার মিনিটের মাথায় দায়োত উপামেকানোর জোরালো হেড বাঁচিয়ে দেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের আক্রমণ বাড়তে থাকে। ২৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। নিজেদের অর্ধে মরক্কোর আশরাফ হাকিমির থেকে বল কেড়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। তিনি পাস দেন এমবাপেকে। একাই অনেকটাই দৌড়ে মরক্কোর বঙে ঢুকে পড়েন এমবাপ্পে। সেখানে তাকে ফাউল করেন নৌসের মাজরাউই। এতটাই স্পষ্ট ছিল সেই ফাউল যে রেফারির সিদ্ধান্তে মাজরাউই নিজেই বিশেষ প্রতিবাদ জানাননি। অথচ সেই পেনাল্টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই সময় লাগে তিন মিনিট ১০ সেকেন্ড। অবশেষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সম্ভবত এতটা বেশি সময় লাগার কারণেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছিল এমবাপ্পের। জীবনের সবচেয়ে খারাপ পেনাল্টিটা মারেন তিনি। মরক্কোর গোলকিপার বোনো এমনিতেই পেনাল্টি বাঁচানোর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। গোলকিপারের বাঁ দিকে এমবাপ্পের নিচু শট এতটাই ধীরগতির ছিল যে বোনোর হাত থেকে বল বেরিয়ে পর্যন্ত যায়নি, সরাসরি তার হাতে জমা পড়ে। মিনিট দশেক পর আবার দলের পতন রোধ করেন বোনো। বঙের ঠিক বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন ডুয়ে। সেটি বাঁচিয়ে দেন। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে বার কাঁপিয়ে দেন লুকাস ডিগনের একটি শট। দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের খেলায় সেই আগ্রাসী ভাবই লক্ষ করা গেছে। মরক্কো তাদের বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পাারেনি। প্রাথমিক কিছুটা সময় মরক্কোর দাপট দেখা গেলেও ধীরে ধীরে খেলা ধরে নেয় ফ্রান্স। তার পরেই মাত্র ছয় মিনিট ব্যবধানে দুটি গোল মরক্কোকে যেন মাঠের বাইরে নিয়ে যায়। মরক্কোর বঙের ঠিক বাইরে বল পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। আশেপাশে বেশ কয়েকজন মরক্কোর ফুটবলার ছিলেন। ডান দিকে সামান্য কাট করে চকিতে শট মারেন এমবাপ্পে। বোনো উড়ে গিয়েও বাঁচাতে পারেননি। এতক্ষণ পর্যন্ত মরক্কো বিশেষ জায়গা দেয়নি ফ্রান্সকে। একটি সুযোগেই গোল করে দেন এমবাপ্পে। গোল হজম করতেই মরক্কোর রক্ষণ খুলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছয় মিনিট পরে আবার গোল করে ফ্রান্স। এই গোলের ক্ষেত্রেও এমবাপ্পের প্রশংসা করতে হবে। বল নিয়ন্ত্রণ করতে করতে মরক্কোর ফুটবলারদের নিজের দিকে টেনে এনেছিলেন এমবাপ্পে। ফলে ফাঁকা হয়ে যান দেম্বেলে। তাকে পাস দেন এমবাপ্পে। কিছুটা সময় নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে গোল করেন দেম্বেলে। কিপার বোনো আরও একটু চেষ্টা করতে পারতেন শটটি বাঁচানোর। তিনি কিছুটা এগিয়ে থাকায় শট বাঁচানো আরও সমস্যার হয়ে যায়। তবু বোনোর কৃতিত্ব কোনও ভাবে অস্বীকার করা যাবে না। মরক্কোর হার যে মাত্র দুগোলের ব্যবধানে হল, তার নেপথ্যে রয়েছে বোনোর কেরামতি। তিনি অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়েছেন। না হলে লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হত মরক্কোকে। ফ্রান্স ম্যাচ জিতে নেয়। আর নায়ক বনেছেন এমবাপ্পে।












