কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যাটারি রিকশাচালকের সংখ্যা। অপ্রাপ্তবয়স্ক এসব চালকের বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চলানোর কারণে প্রায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে ঝরছে প্রাণ, আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
গত ৬ মাসে মগনামা সাবমেরিন নৌ ঘাঁটি সড়কের পেকুয়া বাজারের পশ্চিমে ভোলাইয়াঘোনা ও মামা ভাগিনার স্টেশন এলাকার একই স্থানে ব্যাটারি রিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেছে ৬ জনের। আহত হয়েছে ২০ জনের বেশি। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনই ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরদের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতে দেখা যায়। ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলেও তারা যাত্রী পরিবহন করে চলেছে প্রকাশ্যে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দিন দিন এ প্রবণতা বাড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিশু লেখাপড়া ছেড়ে ব্যাটারি রিকশা চালাচ্ছে। আবার কিছু মালিক কম খরচে চালক পাওয়ার জন্য শিশুদের গাড়ি চালাতে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
সমপ্রতি উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা এলাকায় এক শিশু চালকের ব্যাটারি রিকশার ধাক্কায় হাফেজ সাইফুল ইসলাম নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। একই স্থানে গত ৬ মাসে পৃথক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে শিশুসহ ২০ জনের বেশি। নিয়ন্ত্রণহীন দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ৬ মাসে ব্যাটারি রিকশার ধাক্কায় নিহতরা হলেন পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দীন (৫২), পেকুয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), সদর ইউনিয়নের সরকারিঘোনা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৫৩), কুতুবদিয়া উপজেলার মো. ইসহাক (৭৫), ভোলাইয়াঘোনা চরপাড়া এলাকার রহমত উল্লার স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৫৫), ভোলাইয়াঘোনা এলাকার মো. ইদ্রিসের ছেলে স্কুল শিক্ষার্থী ইছাক (৬) ।
ভোলাইয়াঘোনার বাসিন্দা আনছার কামাল বলেন, শিশুরা না বুঝেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। স্কুলে থাকার বয়সে তারা গাড়ি চালাচ্ছে। তাদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে কোন ধারণা নেই। রোড সাইনের সংকেত বুঝে না। শুধু শিশু চালক নয় অধিকাংশ অটোরিকশা ও সিএনজিচালক রোড সাইন কেন দেওয়া হয়েছে সেটাই বুঝে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
সচেতন মহলের মতে, শিশুদের হাতে যানবাহনের স্টিয়ারিং তুলে দেওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে শিশুশ্রমও বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পেকুয়ায় নিয়োজিত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর দিদারুল ইসলাম জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অভিভাবক ও গাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হবে যেন শিশুদের হাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাহন তুলে না দেয়। সেই সাথে অভিভাবকদের বুঝতে হবে উপর্জানের সক্ষমতার বয়স হওয়ায় আগে যেন তার শিশু সন্তানদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না পাঠায়। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এদিকে পেকুয়া বাজার এলাকায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ও যানজট নিরসন, অটোরিকশা প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার ইজাদার কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সিএনজি, অটোরিকশা মালিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কয়েক দফা বৈঠক হয়।













