পাহাড়তলীতে শিশু আয়নী খুনের মামলার রায় ২০ জুলাই

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাহাড়তলীতে বিড়াল ছানা দিবে বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশু আয়নী খুনের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ২০ জুলাই। গতকাল চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল২ এর বিচারক যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের এ দিন ধার্য্য করেন। এর আগে গত ৮ জুলাই মামলার একমাত্র আসামি সবজি বিক্রেতা রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা (আত্মপক্ষ সমর্থন) করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদউল আলম চৌধুরী (মারুফ) দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় শিশু আয়নী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। উক্ত জিডি তদন্তে আয়নী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্তা উঠে আসে।

একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর নগরীর পাহাড়তলী থানার মুরগী ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে আয়নীর গায়ের একটি গেঞ্জি, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি কালো পায়জামা ও একটি গাড় নেভী ব্লু রংয়ের হিজাবও উদ্ধার করা হয়। মুরগির ফার্মের পাশের কাজির দিঘী এলাকাতে মায়ের সাথে বসবাস করতেন ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া আয়নী। অভিযুক্ত রুবেলও একই এলাকায় বসবাস করে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তার পরবর্তী মো. রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আদালতসূত্র জানায়, আয়নীর লাশ উদ্ধার পরবর্তী তার মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল২ এ একটি নালিশি মামলার আবেদন করেন। আদালত তখন অভিযোগটিকে এফআইআর হিসেবে ট্রিট করার জন্য পাহাড়তলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মো. রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে আদালত এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আসামি মো. রুবেল গ্রেপ্তার পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

আদালতসূত্র আরো জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রুবেলের কাছে আয়নী একটি বিড়ালছানার আবদার করেছিল। রুবেলও তাকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে। একপর্যায়ে ঘটনার দিন রুবেল তার ফুফুর খালি বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে আয়নীকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে গুমের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। নিজের তরকারির ভ্যানে করেই আয়নীর লাশ ডোবা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন রুবেল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিপিসির পাইপলাইন প্রকল্পে গতি
পরবর্তী নিবন্ধবহুমুখী সংকটে সংকুচিত হচ্ছে খাতুনগঞ্জের বাজার