পানিবন্দি ঘর থেকে হাঁড়িতে করে শিশু উদ্ধার

বাঁশখালী প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১০ জুলাই, ২০২৬ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া এলাকায় পানিবন্দি ঘর থেকে রান্নার হাঁড়িতে করে ৮ মাসের এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এসময় আরও আটজন নানা বয়সী শিশুসহ মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

বিডিনিউজ জানায়, বাঁশখালী উপজেলার জলকদর খালের উপর চেচুরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ওই এলাকা বুধবার পানিতে তলিয়ে যায়। সেদিন রাতে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সেখানে উদ্ধার কাজে যায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ওই উদ্ধার কাজের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী বুক সমান পানিতে রশি ধরে এগোচ্ছেন। শিশুটিকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছাতা ধরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের হাতে ধরা একটি হাঁড়ির মধ্যে ৮ মাস বয়সী ওই শিশুকে শুয়ে থাকতে দেখা যায। শিশুটিকে নিরাপদে ওই এলাকা পার করেন তারা।

জানতে চাইলে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রিপল নাইন থেকে ফোন পেয়ে আমরা জানতে পারি, চেচুরিয়ায় ১৩ জন মানুষ আটকা পড়েছেন পানিতে। সেখানে গিয়ে রশিসহ সব সরঞ্জাম সেট করতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। তারপর ওই বাড়ি থেকে বৃদ্ধা, গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বয়স আট মাস। এছাড়া সাত–আট বছর বয়সী আরো শিশু ছিল। সেখানে পানির স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ শেষ করতে রাত সাড়ে ১০টা পেরিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ৩০ জনকে উদ্ধার করেছি। এছাড়া রাস্তার উপর বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো সরানো হয়েছে। বাঁশখালীতে একদিকে পাহাড়ি ঢল, অন্যদিকে প্রবল বর্ষণের জমাটবদ্ধ পানিতে পশ্চিমাংশের লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি রয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সকল আশ্রয়কেন্দ্র খোলে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সমাজকর্মী, এবং সিপিপিসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে উদ্ধারসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি