পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার শহরের বনানী এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আহমাদ মাঈনুল হাসান জানান। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর বিডিনিউজের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে শহরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার নেতা–কর্মীরা। এদিকে সকালে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্রলীগ–যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় হঠাৎ দুই পক্ষের নেতা–কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। চলে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ইট–পাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় মুসলিমপাড়া মোড় থেকে বনানী পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি মশিউর রহমান বাবলু ও সময় টিভির ক্যামেরা পারসন সুজন দাশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার চেষ্টা করলেও আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ–যুবলীগ। সমাবেশে যোগ দিতে আসার সময় নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পেরে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা। তারা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশ দেখেও এর কোনো প্রতিকার করেনি।
এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, সকালে নেতা–কর্মীরা শহরের তিতাস সিনেমা হল মোড়ে শান্তি সমাবেশ করেছে। এ সময় ছাত্রদলসহ বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরে–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।














