পটিয়ায় এবার তানিয়া কামাল নিহাত (১৯) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী নুর উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার গভীর রাতে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের মোনাফ হাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া ওই গ্রামের নুর উদ্দিনের স্ত্রী এবং উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে। তার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন পর। নিহতের মা মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের দুই মাস পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে থানা ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। একপর্যায়ে বিরোধের মীমাংসা হলে সমপ্রতি স্বামীর অনুরোধে তাকে দুই দিনের জন্য শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়। নিহাতের মা জানান, রাত আনুমানিক চারটার দিকে জামাতা ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান এবং হাসপাতালে আসতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মেয়ের মাথার পেছনে রক্ত এবং গলায় ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, বিয়ের পর থেকে তানিয়া বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত শনিবার তিনি শাশুড়িকে দেখতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। রোববার রাতে পরিবারের সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তানিয়ার অসুস্থতার কথা জানতে পেরে তাকে স্বামী ও শাশুড়িসহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার গলায় ও মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে।












