ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে

সার্কিট হাউজে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম পরিদর্শন করলেন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কৃষকেরা যাতে সহজে ও বিনা হয়রানিতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। ব্যাংক হিসাব খোলা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কৃষকদের যেসব সমস্যায় পড়তে হয়, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের আয়োজনে জেলার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তিন জেলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ কার্যক্রম সমপ্রসারণ করা হবে।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

খাদ্যশস্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ এবং গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। আমদানিসহ সব উৎস থেকে সংগ্রহ করা খাদ্যশস্য নির্ধারিত মান পূরণ করলেই গ্রহণ করতে হবে। মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। বিতরণ করা খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত সিল দিতে হবে। এতে বিতরণপ্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হবে। খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জরুরি। খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করতে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় পরীক্ষার যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিমানবন্দরে হুতি হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সৌদি মন্ত্রীর
পরবর্তী নিবন্ধআজ আবু মোহাম্মদ তবিবুল আলমের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী