চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও নৌ–চলাচল চ্যানেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জাল পেতে মাছ ধরার কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। জাহাজের প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জেলেদের সঙ্গে নাবিকদের সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে দাবি করে দ্রুত এসব জাল অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
জেলেপাড়া থেকে পারকি বিচ, শিপ চ্যানেলের আলফা এলাকা থেকে কুতুবদিয়া এবং সি বিচ থেকে ভাসানচর পর্যন্ত নৌ–চলাচলের চ্যানেল থেকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে জাল অপসারণ না করা হলে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর গত ১০ আগস্ট দেওয়া এক চিঠিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফছার হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন নৌপথে লাইটার জাহাজে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় জাল পেতে স্থায়ীভাবে মাছ ধরার কারণে সমস্যার মুখে পড়ছেন। চিঠিতে বলা হয়, নৌযান চলাচলের নির্ধারিত চ্যানেলে জাল পাতা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট জেলেরা আইন–বিধির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে জাল পেতে মাছ ধরছেন। এতে লাইটার জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, জাহাজের প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে গেলে জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে নাবিকদের ওপর হামলাও চালাচ্ছেন। এ সময় জাহাজ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন আগে ভাসানচর এলাকায় জেলেরা দুটি জাহাজের একজন মাস্টার ও একজন সুকানীকে ধরে নিয়ে যায় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় লাইটার জাহাজের নাবিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সমস্যাটি সমাধানের জন্য গত বছরের ৭ আগস্ট ও ১৭ আগস্ট এবং চলতি বছরের ২০ জুলাই বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে পৃথক তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও নৌ–চলাচল চ্যানেলে জাল পাতা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে উল্লেখিত এলাকাগুলো থেকে জেলেদের পাতা জাল সরানো না হলে শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারেন।












