নিয়ন্ত্রণে আসছে ব্যাটারি রিকশা, শনাক্তে থাকবে কিউআর কোড

| মঙ্গলবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশে চলাচলকারী নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় আনছে সরকার। এসব যান চলাচলে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হবে এবং একটি নিবন্ধনের বিপরীতে যাতে একাধিক যান চলতে না পারে সেজন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং বা কিউআর কোড যুক্ত করা হবে। কর্মসংস্থান ঠিক রেখে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। খবর বাংলানিউজের। এর আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে ওই নোটিশটি উত্থাপন করেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রিহুইলার বা অটোরিকশা চলাচল করছে, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজারের মতো হলেও শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এর ফলে গ্রিডের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব যানে ব্যবহৃত সস্তা লেডঅ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদ ব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকের কারণে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ হাজার ১১১ জনের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশই ছিল অটোরিকশা দুর্ঘটনা।

তবে অটোরিকশার ওপর লাখ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল উল্লেখ করে রেহানা আক্তার রানু এগুলোকে ঢালাওভাবে উচ্ছেদ বা ডাম্পিং না করে একটি নীতিমালার আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ এবং এআই ভিত্তিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়ের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই খাতটিতে কর্মসংস্থান জড়িত, তাই আমরা কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ ও সড়ক নিরাপদ রাখতে চাই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ইতোমধ্যে একটি বিধিমালা ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, নতুন নীতিমালার আওতায় অটোরিকশাগুলোর জন্য রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। মহাসড়ক বা প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এগুলো চলতে পারবে না। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একটি যানের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সেই নম্বর দিয়ে ১০২০টি গাড়ি চালানো হয়। এই জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে কর্মসংস্থানও থাকবে, আবার যানজট ও দুর্ঘটনাও কমে আসবে।’

বিদ্যুৎ চুরি রোধে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগেরও নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকার সিগন্যালগুলোতে এআই ভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি
পরবর্তী নিবন্ধকংক্রিটের শহরে খেলার নতুন দুয়ার খুলছে চসিক