নিম একটি ঔষধি বৃক্ষ, যার ডাল–পালা, পাতা, রস, বাকল, ফুল, ফল, শিকড় সবই কাজে লাগে। নিমগাছের বাকল ও শিকড় ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। ব্রণ, চুলকানি ও এলার্জিরোধে এবং চামড়ার ইনফেকশন রোধে নিমপাতা অনেক উপকারী। নিমগাছ প্রায় সকলের কাছে পরিচিত। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নিমগাছ বেশি দেখা যায়। ভেষজ চিকিৎসায় নিম গাছের ব্যবহার খুব সমাদৃত। নিম গাছ আকৃতিতে ৪০–৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কৃমি নিরাময় করতে নিমের গুণাগুণ অপরিসীম। ৩০–৪০ গ্রাম নিমছাল চূর্ণ করে সামান্য পরিমাণ সিন্ধুক লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিমপাতার রস ও নিম বীজের রস নিয়মিত খেলে আলসার ভালো হয়। ২৫–৩০ ফোটা নিমপাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া যায়। ক্যান্সার প্রতিকারে নিমপাতার ভূমিকা অতুলনীয়। কচি নিমডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি ভালো থাকে। নিম পাতার রস পানিতে মিশিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে দাঁতের সংক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়। নিমপাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়ার জন্য অনেক উপকারী। মানসিক চাপ ও অশান্তি যাদের বেশি তাদের নিম পাতার রস নিয়মিত পান করা উচিত। এতে অনেক উপকার পাওয়া যায়। ত্বকের দাগ দূর করতে নিমপাতা খুব ভাল কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগানো যায়। নিমপাতার প্রলেপ আকারে ৭–১০দিন ব্যবহার করলে খোস পাচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপকার হয়। নিম পাতার রস রক্ত পরিষ্কার করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও রক্ত চলাচল বাড়িয়ে হৃৎপিন্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও নিমের জুড়ি নেই। কাঁচা নিমপাতা ১০ গ্রাম ২কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ অবশিষ্ট থাকতে ছেকে নিয়ে প্রয়োজনমত চিনি মিশিয়ে পান করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উল্লেখিত নিয়মে প্রতিদিন ২–৩ বার নিয়মিত ১–২ মাস পান করতে হবে। নিমের তৈল, শ্যাম্পু, লোশন, ক্রিম, টুথপেষ্ট প্রভৃতি বর্তমান বাজারে বেশ প্রচলিত পণ্য। নিমের এসব পণ্য ত্বককে মসৃণ করে ও ইনফেকশনের হাত থেকে দূরে রাখে। কথায় আছে নিমের ছায়ায় অবস্থান করলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। প্রাচীনকাল থেকে নিমকে একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তাই, নিমগাছ বাড়ির পাশে থাকলে তা পরোক্ষভাবে একজন ডাক্তারের মত কাজ করে, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।












