চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নামছে ধীরগতিতে। সেই সাথে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। কোথাও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। কোথাও ধসে গেছে রাস্তাঘাট। কোথাও সবজি ক্ষেত, ফসলী জমি, মাছের প্রজেক্ট ও পোলট্রি খামার ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিডিনিউজের এক খবরে বলা হয়, গতকাল রোববারও চট্টগ্রামে ছয় লাখের বেশি মানুষের পানিবন্দি থাকার তথ্য দিয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। ৫ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর অনেক জায়গা প্লাবিত হয়। এ বন্যায় চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা।
সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : আমাদের সাতকানিয়া প্রতিনিধি জানান, এই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত এবং সাঙ্গু ও ডলুনদী দিয়ে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল আসা অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি কিছুটা ধীর গতিতে কমছে। নিচু এলাকায় কিছু মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার অভ্যন্তরীণ কিছু কিছু রাস্তা ঘাট থেকেও পানি নেমে গেছে। বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।
গতকাল বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বসত ঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও পরিবার পরিজন নিয়ে এ মুহূর্তে ঘরে ফেরা হচ্ছে না অনেকের। কাঁচা ঘরে কাদা জমে একাকার হয়ে গেছে। ঘরের তলা না শুকানো পর্যন্ত বসবাসের উপযোগী হবে না অনেক বসত বাড়ি।
বাঁশখালীতে এখনো অনেক জায়গায় পানি : বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, এখানে বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বাভারিক হয়ে উঠেনি। এখনো অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। পানি বন্দী মানুষগুলো চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে । তাদের অনেকেই রান্না করতে না পারায় খাবার সমস্যা হচ্ছে । তবে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে ।
সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ছনুয়া এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে গেছে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে গেছে কিংবা পানিতে বিলীন হয়ে গেছে।
বান্দরবানে স্বাভাবিক হয়নি সড়ক যোগাযোগ : বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। লামা–আলীকদম উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। কিন্তু রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি–আলীকদম, লামা–সূয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় পাহাড় ধসে সড়কের ওপরে মাটি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে জেলা শহরটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে মাছ–মাংস, শাক–সবজিও মিলছে না। । অন্যদিকে সড়কে পানি উঠায় প্লাবিত এলাকা ভ্যানে, নৌকায় পারাপারের নামে লোকজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যার্তদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। জেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ও জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বন্যা কবলিতদের পাশে দাড়িয়েছে।
চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি : চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, একসপ্তাহের লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে প্রবল বেগে নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা। এই তিন উপজেলার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে কোমর থেকে গলা পর্যন্ত পানি উঠেনি। যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে সেখানে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন।
গত শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানিও কমতে থাকে মাতামুহুরী নদীতে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিও নেমে যেতে দেখা যায়। কিন্তু গতকাল রবিবার ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ফের অতি ভারি বর্ষণ শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে। অবশ্য বিকেলের পর থেকে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায়।
অঙিজেন–হাটহাজারী সড়কে ফের পানি : হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, অঙিজেন – হাটহাজারী মহাসড়কের বড় দিঘির পাড় গতকাল রবিবার ফের পানি নীচে তলিয়ে যায়। ফলে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি ব্যাহত হয়। গত শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টিপাত কম থাকায়, অঙিজেন–বড়দিঘীর এলাকার মহাসড়ক থেকে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নেমে যায়। গত শনিবার সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কিন্ত গতকাল রবিবার পুররায় বর্ষণে ফের গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।










