নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন পর্যটকরা

এবার বেড়ানোর সুযোগ সাড়ে ৪ মাস, দিনে যেতে পারবেন ৩৫০০ পর্যটক

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

এবারের মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময়সীমা ৪৫ দিন বাড়িয়ে সাড়ে চার মাস করা হয়েছে। আর একদিনে সেখানে যেতে পারবেন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক, যা আগে ছিল দুই হাজার। গতকাল রোববার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ–২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিডিনিউজ জানায় : নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন। গত বছর এ সময়সীমা ছিল নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। কঙবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

এ পথে চলাচলের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ–পরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে নৌযান মালিককে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলছে, পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি হতে পারবে না। দ্বীপে ভ্রমণের জন্য পর্যটক প্রতি ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এর বাইরে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেসব এবারও কার্যকর থাকবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে– পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকেট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকেট অবৈধ বলে গণ্য করা হবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। এর পরের সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ–বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি–বাইক বা যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান–শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া ১৩৫ দিনই সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক বেড়াতে গেলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ জনে। তাতে পুরো মৌসুমে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ আদায় হতে পারে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আমাদের কঙবাজার প্রতিনিধি জানান : সেন্টমার্টিনের ভ্রমণ অনুমতি পাস করায় পর্যটক, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিনবাসী খুশি হয়েছেন। যদিও বিধি–নিষেধ শিথিল না করায় কিছুটা হতাশাও রয়েছে তাদের।

সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–স্কোয়াব এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি আগে থেকেই সরকারিভাবে ইঙ্গিত ছিলো। সে অনুসারে আগ্রহী জাহাজগুলো প্রাথমিক প্রস্তুতি রেখেছিলো। প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি অনুমোদন দেয়া হয়নি। অনুমোদন প্রক্রিয়াটা হয়তো এর মধ্যে সম্পন্ন হবে।

স্কোয়াব সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১০টির মতো জাহাজগুলো চলাচল করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু সে পরিমাণ পর্যটক থাকবে না। ফলে জাহাজগুলোকে আসন খালি রেখেই চলাচল করতে হবে। এতে লোকসান গুণতে হবে।

সেন্টমার্টিন হোটেল–মোটেল–রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী জানান , সেন্টমার্টিন দ্বীপে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০টির মতো আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসাথে অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটক গমণ করলে দীর্ঘ নয় মাস পর চাঙ্গা হয়ে উঠবে সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবসা।

কঙবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনী জাহান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি অবহিত হয়েছে জেলা প্রশাসন। তাই আগ্রহী জাহাজগুলোকে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচসিকের পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন ডা. শাহাদাত
পরবর্তী নিবন্ধআদালত সংকটে বাড়ছে মামলা জট