মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে টানা নবম দিন ধরে অচল রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। প্রশাসনের চরম নীরবতা ও দৃশ্যমান কোনো সুরাহা না মেলায় এবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আদেশের পরই ফুঁসে ওঠে গোটা চুয়েট পরিবার। প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।
আন্দোলনের নবম দিনে গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক ও স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের চোখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। তাঁদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস-‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘প্রশাসন অন্ধ কেন, জবাব চাই জবাব দাও’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, টানা ৯ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও প্রশাসন সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ উদাসীন। প্রশাসন যেন তাঁদের দাবির প্রতি স্বেচ্ছায় ‘চোখ বন্ধ করে’ বসে আছে–এরই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে চোখে কালো কাপড় বাঁধার এই কর্মসূচি বেছে নেওয়া হয়েছে।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, ‘প্রায় নয় দিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ন্যূনতম কোনো সাড়া মিলছে না। এই নীরবতার প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা চোখে কালো কাপড় বেঁধেছি।’ স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা সামিহা যোগ করেন, ‘সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ থামবে না।’
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মূল ফটক বন্ধ করে ‘শাটডাউন’ ও ক্লাস–পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, যা এখনো বলবৎ রয়েছে। আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন নতুন ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সেদিন সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধানের কথা বললেও বুধবার পর্যন্ত তিনি ক্যাম্পাসে পা রাখেননি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মো. একরাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের এই সর্বাত্মক অনড় অবস্থানের ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চুয়েটের সার্বিক কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।











