১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর–কিশোরীদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্যায়ের তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সমাপনী দিনে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্স ও দাবা, জেলা সুইমিং পুলে সাঁতার এবং রাইফেল ক্লাব জিমনেসিয়ামে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ নিজ ভেন্যুতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় দ্রুততম বালক ও বালিকার গৌরব অর্জন করেন যথাক্রমে চট্টগ্রাম জেলার মো. জাওয়াদ কাদের (সময় ১২.১৪ সেকেন্ড) এবং রাঙামাটি জেলার হ্লাথুইচিং মারমা (সময় ১৫.০৫ সেকেন্ড)। প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফাইন্যান্স ও ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু। জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব মশিউল আলম স্বপন ও সদস্য এম আবুল হাসনাত, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সদস্য শরিফুল ইসলাম তুহিন, অ্যাথলেটিক্স উপকমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট ও সাংবাদিক এম সরওয়ারুল আলম (সোহেল) প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে পদক ও সনদ বিতরণ করেন।
অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটার বালক বিভাগে প্রথম হন মো. জাওয়াদ কাদের (চট্টগ্রাম), দ্বিতীয় পরন্ত চাকমা (রাঙামাটি) এবং তৃতীয় মো. নাহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি)। ২০০ মিটার বালক বিভাগে প্রথম মো. জাওয়াদ কাদের, দ্বিতীয় মো. আবু সুফিয়ান আলিফ (উভয়ই চট্টগ্রাম) এবং তৃতীয় আহাদুল ইসলাম (কক্সবাজার)। দীর্ঘলাফ বালক বিভাগে প্রথম মুজাহিদ জাহাঙ্গীর (খাগড়াছড়ি), দ্বিতীয় ওবায়দুল হক ভূইয়া (চট্টগ্রাম) এবং তৃতীয় মো. সাফওয়ান নাহিয়ান (চট্টগ্রাম)। ১০০ মিটার বালিকা বিভাগে প্রথম হ্লাথুইচিং মারমা (রাঙামাটি), দ্বিতীয় মোছাম্মৎ রাফি (কক্সবাজার) এবং তৃতীয় নুবতাজ বেগম (কক্সবাজার)। ২০০ মিটার বালিকা বিভাগে প্রথম হ্লাথুইচিং মারমা, দ্বিতীয় দমেদো মারমা (বান্দরবান) এবং তৃতীয় থাইমেশিং মারমা (রাঙামাটি)। দীর্ঘলাফ বালিকা বিভাগে প্রথম রাদোয়া আফরাহ (চট্টগ্রাম), দ্বিতীয় মোছাম্মৎ রাফি (কক্সবাজার) এবং তৃতীয় তানিয়া ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি)।
ব্যাডমিন্টনের একক বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন খাগড়াছড়ির রুদ্র ত্রিপুরা রাংমাই এবং রানারআপ চট্টগ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা।
একক বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন খাগড়াছড়ির অনুষ্কা তালুকদার এবং রানারআপ অংলা চিং মারমা। দ্বৈত বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় খাগড়াছড়ির প্রাণন চাকমা ও রুদ্র ত্রিপুরা রাংমাই জুটি। রানারআপ হয় চট্টগ্রামের নাইম উদ্দিন হাসান সাবিত ও তাসবিন মোরশেদ জুটি। দ্বৈত বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় খাগড়াছড়ির কুশলা চাকমা ও অনুষ্কা তালুকদার জুটি এবং রানারআপ হয় কক্সবাজারের মেহজামিন তানহা ও সারমিন কবির ইফি জুটি। বিকেলে চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবে অনুষ্ঠিত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন। জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ব্যাডমিন্টন উপকমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দাবা প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় মো. মোতাহার হোসেন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী, দাবা উপকমিটির আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন ও কোচ এস এম তারেক উপস্থিত ছিলেন। দাবা বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন চট্টগ্রামের অনিন্দ এবং রানারআপ সানরিত দে। বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন চট্টগ্রামের মাশরিফা আহামেদ রাহা এবং রানারআপ খাগড়াছড়ির আধিশ্বরি দেববর্মা।
জেলা সুইমিং পুলে অনুষ্ঠিত সাঁতার প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মো. মোতাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী, মোহাম্মদ আকবর আলী ও কোচ মাহাবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি












