চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিপিং ও বন্দর–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক বা তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে দুই দিনে মোট ৪৫০টি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৬–এর আলোকে লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। চবকের সচিব স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
সার্কুলারে বলা হয়, লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে আহ্বান করা বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক অথবা তাদের কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার ২০ আগস্ট এবং ২৭ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। আবেদনকারীদের ক্রমিক নম্বর ও সাক্ষাৎকারের সময়সূচিও সার্কুলারের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০ আগস্ট প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১ থেকে ৪৫ নম্বর, ১১টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৬ থেকে ৯০ নম্বর, দুপুর ১২টা ১ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত ৯১ থেকে ১৩৫ নম্বর এবং ১টা ১ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত ১৩৬ থেকে ১৮০ নম্বর আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছে। দুপুর ২টা ১ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত বিরতি শেষে বিকেল ৩টা ১ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত ১৮১ থেকে ২২৫ নম্বর আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় দিনে ২৭ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২২৬ থেকে ২৭০ নম্বর, ১১টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৭১ থেকে ৩১৫ নম্বর, দুপুর ১২টা ১ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত ৩১৬ থেকে ৩৬০ নম্বর এবং ১টা ১ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত ৩৬১ থেকে ৪০৫ নম্বর আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। বিরতির পর বিকেল ৩টা ১ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত ৪০৬ থেকে ৪৫০ নম্বর আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।
সার্কুলারে সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা সব দলিলাদির মূলকপিসহ উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারের ক্রমিক নম্বর ও সময়ের বিন্যাস পরিচালকের (ট্রাফিক) দপ্তরে সংরক্ষিত তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ, টার্মিনাল ও শিপ হ্যান্ডলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অপারেটরদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বন্দর পরিচালনা ও জাহাজের পণ্য ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে নতুন করে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগে বন্দর ও শিপিং খাতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যমান অপারেটরেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আমাদের অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না। নতুন করে লাইসেন্স দেয়া হলে কাজের আকাল প্রকট হয়ে উঠবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, পরবর্তীতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এখন নতুন করে লাইসেন্স দেয়ার তোড়জোড় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করছে বলেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অপরদিকে বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা এবং নতুন লাইসেন্সের আবেদনকারীরা বলেছেন, বিদ্যমান অপারেটরদের পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে শিপ হ্যান্ডলিং ব্যবসায় প্রতিযোগিতার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরে সেবা পাওয়া সহজ হবে যা দেশের ভোক্তা পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের যোগ্যতা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে ৪৫০টি প্রতিষ্ঠানের সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয় তা নিয়েও জল্পনা কল্পনা চলছে।












