দেড় হাজার টাকার জন্যই সিএনজি চালক হেলালকে খুন

গ্রেপ্তার ৩ জনের স্বীকারোক্তি

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

মাত্র দেড় হাজার টাকার জন্য বোয়ালখালীতে সিএনজি টেক্সি চালক মো. হেলালকে (৩৯) খুন করা হয়েছে। দুদিন আগে ৩ ডিসেম্বর বোয়ালখালী থানা পুলিশ ধানের ক্ষেত থেকে হেলালের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। গত সোমবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব-৭।

আসামিরা হেলালকে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ। গত সোমবার রাতে নগরীর শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা থেকে মোহাম্মদ বখতেয়ার (২৭), চাক্তাই এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. ইলিয়াস (৩৫) এবং বোয়ালখালী পৌরসদরের মীরপাড়া থেকে মনির আহম্মদ মেহেরাজকে (২৬) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, নিহত হেলাল গাড়ি চালানোর সুবাদে সিএনজি টেক্সি গ্যারেজের মিস্ত্রি ইলিয়াসের সাথে পরিচয় হয়। চার মাস আগে ইলিয়াসের মামাতো ভাইয়ের একটি সিএনজি বিক্রির বিষয়ে হেলালের সহযোগিতা চায় ইলিয়াস। সিএনজিটি বিক্রি করে দিতে পারলে তারা ৫ হাজার টাকা বকশিস পাবে বলে জানায় ইলিয়াস। দু’জনে আড়াই হাজার টাকা করে ভাগে পাবে।

পরে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকায় তারা সিএনজি টেক্সিটি বিক্রি করে। বকশিসের টাকা থেকে ১ হাজার টাকা হেলাল উদ্দিনকে দেয় ইলিয়াস। বাকি দেড় হাজার টাকার জন্য দু’জনের মধ্যে বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। ইলিয়াস তার প্রতিশোধ নিতে হেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ জন্য ইলিয়াস তার পরিচিত সিএনজি টেক্সি চালক বখতিয়ার ও মনির আহম্মদ মেহেরাজকে ভাড়া করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ইলিয়াস হেলালকে তার সিএনজি কেনা-বেচার উদ্দেশ্যে কথা বলার জন্য উপজেলা সদরের সিএনজি স্টেশনে আসতে বলে।

হেলাল উদ্দিন ওই জায়গায় ইলিয়াসের সাথে দেখা করে। ইলিয়াস সিএনজি কেনার কথা বলে হেলালকে নিয়ে হেলালের সিএনজিতে করে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের পোস্ট অফিস সড়ক থেকে একটু ভেতরে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। এসময় অপর এক সিএনজি নিয়ে ইলিয়াসের সহযোগী বখতিয়ার ও মেহেরাজ তাদের পিছু নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর মিস্ত্রি ইলিয়াস হেলালকে মারধর করতে থাকে। বখতিয়ার কাঠের লাঠি দিয়ে হেলালের মাথায় আঘাত করে এবং মেহেরাজ তাৎক্ষণিকভাবে সাথে থাকা ছুরি দিয়ে পিঠে ছুরিকাঘাত করে।

এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ইলিয়াস সিএনজি থেকে হাতুড়ি নিয়ে এসে হেলালের মাথায় উপুর্যপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হেলালের মরদেহ একটি ধান ক্ষেতে ফেলে দিয়ে ইলিয়াস হেলালের সিএনজি টেক্সি নিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ২৯ নভেম্বর দুপুরে ঘর থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন হেলাল। ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের নাডা বিলে হেলালের অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। হেলালের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে তার সিএনজি টেক্সিটি পাওয়া যায়নি। নিহত সিএনজি টেক্সি চালক হেলালের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলার নিজহোগলা গ্রামে। হেলাল দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীর জামদারহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ৪ ডিসেম্বর হেলালের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা তিন চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি হেলালের স্ত্রী নাজমা আকতারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব।