দেশের অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কোনো অপশক্তির নেই

মহানগর বিএনপির গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে মীর হেলাল ১৯৭১ ও ২৪ এর পরাজিত শক্তি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি যখন ঊর্ধ্বমুখী ধরায় ফিরছে, ঠিক তখনই ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি দেশ ও জনগণের বিরোধিতা করার জন্য মাঠে নেমেছে বলে দাবি করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, একজন নেতা নিজ নেতাকর্মীদের ফেলে রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আরেকজন গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভেবেছিল বিদেশি অ্যারেজমেন্ট (সমঝোতা)-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে। তবে জনগণ তাদের প্রত্যাখান করায় তারা আবারও ১৯৭১ সালের মতো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল বুধবার ২ নং গেইট বিপ্লব উদ্যানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। সমাবেশে শেষে ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজি’র প্রতিবাদে বিপ্লব উদ্যান থেকে গণমিছিল বের হয়। নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর হেলাল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, কোনো অপশক্তির তা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। বিএনপি বারবার ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েও ঘুরে দাঁড়ানো একটি রাজনৈতিক দল। এসময় রাজপথে আন্দোলনের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বতর্মানে সংসদে ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি গত ১৭ বছর রাজপথে ছিলাম, আজও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যদি রাজপথে সোচ্চার ও সংগঠিত থাকে, তবে পলাতক, ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীরা রাপজথে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে না।

এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরপরও তারা রাজপথ ছাড়েনি। দীর্ঘদিনের আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেছেন, ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় তারা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র বা নৈরাজ্য মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সাংগঠনিক ঐক্য। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে।

আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্তি–শৃঙ্খলা বিনষ্টের গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে এবং যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সুফিয়ান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো মহল সন্ত্রাস বা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। উসকানি, গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে।

সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বা বোমা হামলার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত অপশক্তির যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করেনি, তাদের একটি অংশ বর্তমানে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়েছে। এসব শক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ৩০ শতাংশের স্তন ক্যান্সার
পরবর্তী নিবন্ধবাকলিয়ার ‘মুরাদ বাহিনীর’ মুরাদ দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার