দূরের টানে বাহির পানে

হাসান আকবর

বুধবার , ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
সকালে ঘুম ভাঙার পর বেশ আয়েশি একটি ভাব টের পাচ্ছিলাম। ফুরফুর করছিল মেজাজ। রাতের একটি বড় অংশ দুবাই শহরের হেথায় হোথায় কাটিয়ে এসেছি আমরা। আরব দুনিয়ার শহর। দুবাই শহর। অথচ শহরে রাস্তাঘাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরে বাইরে কোথাও আরবের আদর্শিক কোন চিহ্ন নেই। সর্বত্রই ভোগের জয় জয়কার। সর্বত্রই ভোগবাদী মানুষের ছুটে চলা। আমরা দল বেঁধে ঘুরেছিলাম। নিরীহ একদল মানুষ। আরব বিশ্বের সাথে পা চালানোর মতো শক্তি আমাদের কারোই ছিল না। আমরা ঘুরেছি। খেয়েছি। আড্ডা দিয়েছি। চোখ কান খোলা রেখে দেখেছি। আলোকোজ্জ্বল শহর আর সুপ্রশস্থ রাস্তায় ছুটে চলা দামি দামি ব্রান্ডের সব গাড়ি আমাদের নজর কেড়েছে।
হোটেলের দোতলায় নাস্তার আয়োজন। ব্যুফে। রকমারি খাবারে সুসজ্জিত বিশাল রেস্টুরেন্ট। আমি যখন রয়ে সয়ে নামলাম, তখন অনেকেরই নাস্তা পর্ব শেষ। আবার কেউ কেউ কফির কাপে শেষ চুমুক দিচ্ছেন। এই ধরনের রেস্টুরেন্টে খাবার দাবারের পাশাপাশি নিজেদের গ্রুপের সদস্যদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ এবং আড্ডার ঘটনাও চলে সমানতালে। এই গল্পের ফাঁকে কেউ কেউ দুই কাফ কফিও খান। কেউবা দুই কাপ চা। উঠার আগ দিয়ে এক কাপ চা অথবা কফি আমাদের মতো অনেকেরই টনিকের মতো কাজ করে।
আমি ধীরে সুস্থে নাস্তা করছিলাম। অনেক সময় হাতে। অফুরান। নাস্তার জন্য যেমন সময় রয়েছে তেমনি সময় রয়েছে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও। নির্দিষ্ট কোথাও যাওয়ার নেই। আমার সীতাকুণ্ডের এক বন্ধু জাহাজের ক্যাপ্টেন। বহুদিন জাহাজ চালানো ছেড়ে দিয়ে দুবাই শহরে স্থায়ী হয়েছেন। ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। নিজের ছোট ছোট কয়েকটি জাহাজ আছে। তা দিয়ে ধারে কাছের দেশগুলোর সাথে ব্যবসা করেন। ভালোই আছেন বলে জানি। আমি এসেছি শুনে ক্যাপ্টেন মোস্তফা ভাই নিজ থেকেই যোগাযোগ করলেন। বললেন, সাথে নিয়ে একটু ঘুরতে চান। একবেলা খাওয়াতে চান। বিদেশে গিয়ে প্রবাসী ভাইগুলো যেভাবে অন্তর উজাড় করে দেন তার তুলনা হয়না। নিজেদের বন্ধু-বান্ধবতো আছেনই, পরিচিত জনদের অনেকেই এক বেলা খাওয়ানোর জন্য উঠে পড়ে লাগেন। এতে করে বিদেশের দেশে দেশে কত মানুষের কত ভালোবাসা যে এই একজীবনে ভোগ করেছি তার কোন হিসেব নিকেশ নেই। মানুষের ভালোবাসায় কত জায়গায় যে পাত পেতেছি তারও নেই কোন হিসেব। মানুষের এই ভালোবাসার ঋণ শোধ একজীবনতো দূরের কথা শত জনমেও সম্ভব নয়। ক্যাপ্টেন মোস্তফা ভাই অনেকটা হুলস্থুল ফেলে দিয়েছেন। উনাকে সময় না দিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরছি তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ। অবশেষে আজ সকাল এগারটায় উনাকে আসতে বলেছি। এদিক ওদিক কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে এক সাথে খাওয়া দাওয়া করবো। প্রোগ্রাম ফাইন্যাল করেছি একদিন আগে। সকালে মোস্তফা ভাই ফোন করে আমাকে প্রোগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিলেন। বললেন, ঠিক এগারটায় তিনি নভোটেল-এ পৌঁছবেন।
ইউরোপের দেশগুলোতে সময় ধরে সব কিছু চলার ঘটনা দেখেছি। ট্রেন বাস বিমান সবই একেবারে সময় ধরে চলে। এক মিনিট আগেও নয়, পরের তো প্রশ্নই উঠেনা। মানুষগুলোও সময় রক্ষা করে চলাচল করেন। কোথাও কোন ধরণের বড় অঘটন না ঘটলে ছন্দপতন ঘটে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ছন্দপতন ঘটলেও তা তারা এত দ্রুত সামলে নেন যে, মানুষের ভোগান্তি কখনো চরমে উঠে না। রাস্তাঘাটে মানুষের সংখ্যা অনেক কম। রাস্তার তুলনায় কম গাড়ির পরিমাণও। এতে করে সময়মতো সময় রক্ষা করতে তাদের বেগ পেতে হয়না। আমরা বিপুল জনসংখ্যার দেশ। বিপুল পরিমাণ গাড়ি রাস্তায়। মানুষের জটলাও হেথায় হোথায়। এতে করে আমরা ঠিক সময় রক্ষা করে চলাচল করতে পারিনা। দুবাই শহরও আমাদের মতো। প্রচুর মানুষ। বেশুমার গাড়ি। পুরো রাস্তা জুড়ে কিলবিল করছে গাড়ি। এখানে সময় রক্ষা করবে কিভাবে! অথচ ঠিক এগারটায় নভোটেল-এর নিচ থেকে ফোন করলেন ক্যাপ্টেন মোস্তফা। উনি চলে এসেছেন বলেও জানান দিলেন।

লায়ন জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, লায়ন মীর্জা আকবর আলী চৌধুরী, লায়ন কামরুজ্জামান লিটন, লায়ন মুছা বাবলু এবং আমি ক্যাপ্টেন মোস্তফা ভাইর সেভেন সিটারে গিয়ে চড়লাম। মোস্তফা ভাই ড্রাইভিং সিটে। লো ভলিউমে পবিত্র কোরান শরীফ তেলোয়াত চলছে গাড়িতে।
মোস্তফা ভাই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আমাদের নিয়ে দুবাই শহরের নানা রাস্তা ধরে ঘুরতে লাগলেন। বুর্জ আল খলিফার পাশের রাস্তায় গেলাম, ছুটলাম বুর্জ আল আরবের রাস্তায়ও। আমাদেরকে নিয়ে চক্কর দিলেন শহরের নানা অভিজাত এলাকায়ও। ঘুরতে ঘুরতে লাঞ্চের সময় হয়ে গেল। মোস্তফা ভাই লাঞ্চ করাবেন এটি পূর্ব নির্ধারিত। তিনি আমরা কি খেতে চাচ্ছি জানতে চাইলেন। বাঙালি খাবার, আরবের খাবার নাকি লেবাননের খাবার খাবো জানতে চাইলেন। পরে নিজ থেকেই বললেন, বাঙালি খাবারতো সারা জীবনই খেয়েছেন। অথেনটিক আরব ফুড খেতে পারবেন না। তার থেকে চলেন ‘লেবাননি ফুড’ টেস্ট করি। আমাদের তেমন কিছু বলার ছিল না। শুধু মাথা নাড়লাম।
আরো কয়েকটি রাস্তা ঘুরে, কিছুটা গলিপথ পেরিয়ে গাড়ি পার্ক করা হলো। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করার সুযোগ দুবাইতে নেই। নির্দিষ্ট পার্কিং এ গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হবে। হোটেল রেস্তোরাঁ বা বারের সামনে গাড়ি রেখে রাজার মতো চলে যাওয়ার সুযোগ আমাদের দেশে ছাড়া দুনিয়ার খুব কম দেশেই আছে। অতএব আমাদেরকে বেশ কিছু পথ হাঁটতে হলো। একটি বড়সড় ভবনের তিন তলায় রেস্টুরেন্টে গিয়ে চোখ কপালে উঠার উপক্রম হলো। বিশাল রেস্তোরাঁ। চেয়ার টেবিলের পাশাপাশি ফ্লোরে মোটা কার্পেট পাতা। কার্পেটের উপর জরিদার আস্তর। কোল বালিশের ব্যবস্থাও রয়েছে। নিচে বসে গা এলিয়ে খাওয়া দাওয়ার মধ্যে আরব্য ভাব পাবো মনে করে আমরা নিচে গিয়ে বসলাম। কোল বালিশে হেলান দিয়ে কাটাতে লাগলাম সময়। খাবারের অর্ডার করা হলো। আগে আমাদেরকে বেশ ঢাউশ সাইজের বাটি ভর্তি করে সালাদ দেয়া হলো। সকালে ভরপেট নাস্তা করলেও এখন মনে হচ্ছে ক্ষুধা লেগেছে। আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে লেবাননি ফুড দিয়ে দুপুরের খাবার সারলাম। কিছুটা বাড়তি ঝাল হলেও খাবারগুলো ছিল এক কথায় অসাধারণ।
খাবারের পর মালাই চা হলো। বেশ তৃপ্তি নিয়ে চায়ের কাপও উজাড় করার পর ক্যাপ্টেন মোস্তফা বললেন, চলেন, মিরাকল গার্ডেনে যাই। ভালো লাগবে। মিরাকল গার্ডেন মানে? জাদুর বাগান! মোস্তফা ভাই হাসলেন। বললেন, চলেন, নিজের চোখে দেখেন। ভালো লাগবে। মোস্তফা ভাই গাড়ির স্পিড মনে হয় একটু বাড়ালেন।
দুবাইয়ের শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ সড়ক ধরে এগুচ্ছিল আমাদের গাড়ি। বিখ্যাত দুবাইল্যান্ডের কাছে এসে থামলেন মোস্তফা ভাই। মরুভূমির পাশেই দেয়াল ঘেরা চমৎকার একটি জায়গা। বড় বড় হরফে লেখা মিরাকল গার্ডেন। মোস্তফা ভাই গাড়ি পার্ক করলেন। মিরাকল গার্ডেনের কাছেই মরুভূমিতে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা। এতে করে গাড়ি থেকে নেমেই সামান্য পথই আমাদের হাঁটতে হলো। মরুভূমির বালি মাড়িয়ে এগুতে হলো সামনে। গেটের কাছেই টিকেট কাউন্টার। আমাদের কাউকে কাছ ঘেঁষতে না দিয়ে মোস্তফা ভাই সবার জন্য টিকেট করে নিলেন। গেট পার হতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেল। কী করে সম্ভব। মরুর বুকে এভাবে ফুল ফোটানো যায়! মমতা দিলে বুঝি মরুর পাথরেও ফুল ফুটে! কথাটিকে এতদিন আবেগের মনে করতাম। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে না মিথ্যে নয়, যত্ন এবং ভালোবাসায় মরুর বুকেও ফুল ফোটানো সম্ভব। যেটি প্রমাণ হয়েছে মিরাকল গার্ডেনে। মরুর তপ্ত বালিতে যেখানে একটি গাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন সেখানে লাখ লাখ ফুল গাছে ফুল ফুটিয়ে বাগান করা আসলেই মরা গাছে ফুল ফোটানোর মতো কঠিন! অথচ সেই কঠিন কাজই দুবাইর মিরাকল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ করেছে। আর এই অসাধ্য সাধন করেছে বলেই মিরাকল গার্ডেন দুনিয়ার গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই পেয়েছে।
মিরাকল গার্ডেন আসলেই একটি বিস্ময়কর স্থাপনা। আক্ষরিক অর্থেই মিরাকল। ফুলের বাগান। ফুলের বাগানে তৈরি করা হয়েছে নানা কিছু। নানা অবয়ব। ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ঘড়ি। এটিও নাকি গিনেজ বুকে ঠাঁই করে নিয়েছে। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ফুল ঘড়ি। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডেতে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ‘মিরাকল গার্ডেন’। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুলের বাগান। ৭২০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ১৫ কোটি ফুল গাছ লাগিয়ে তা টিকিয়ে রাখা এবং ফুল ফোটানো আসলেই এক বিস্ময়কর ঘটনা। বাগানটিতে এমনভাবে ফুল গাছ লাগানো হয়েছে যে, যেখানে ফুল ফোটে তৈরি হয় এক একটি অবকাঠামো। ঘড়ির কাঁটা, থেকে ঘরের দরোজা, ভালোবাসার অতি বড় লাভ সাইন সবই ফুল দিয়ে। ফুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিকিমাউশ, ফুল দিয়ে তৈরি গাড়ি। রেল গাড়ি। নানা রকম রঙিন ফুলের এক দারুণ সমারোহ বাগানটিকে একটি বিস্ময়কর বাগান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আরব আমিরাতের পুরো শীতকাল এবং গ্রীষ্মেরও কিছু সময় অর্থাৎ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মিরাকল গার্ডেন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। বছরের বাকি সময় অত্যধিক গরম এবং সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয় মিরাকল গার্ডেন। প্রতি মৌসুমে নিত্য নতুন ডিজাইনের নানা স্থাপনা নির্মাণ করা হয় ফুল দিয়ে। সবকিছু গুছিয়ে ঘোষণা দিয়ে উন্মুক্ত করা হয় বাগান। আর প্রতিবারই তাক লাগানোর ঘটনা ঘটে। বাগানজুড়ে এমনতর অভিনব সব পরিবর্তন আনা হয় যে, গত বছর বাগান ঘুরে যাওয়া পর্যটকও পরের বছর আর বাগানটিকে চিনতে পারেন না। মনে হয় নতুন কোন বাগানে এসে পড়েছেন। নিত্যনতুন ফুলের অবয়বে মানুষের মন কাড়ে মিরাকল গার্ডেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, সাড়ে চার কোটি ফুলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিল মিরাকল গার্ডেন। বর্তমানে এই বাগানে ১২০ প্রজাতির ফুল গাছের সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি। ছোট ছোট টবে গাছগুলো লাগানো। প্রতিটি টবে পানি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। উপর থেকে ঝর্ণার মতো করেও পানি দেয়ার সিস্টেম রয়েছে বাগানজুড়ে। আবার ওই ঝর্ণাকেও ফুলের গাছ দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। ফুল ফোটছে ঝর্ণায়ও। শুধু কী ঝর্ণায় ফুল? সর্বত্র ফুল আর ফুল। ফুলের তৈরি ক্যাসেলের আদলে ঘর, অনিন্দ্য সুন্দর লেক পার্ক, হার্ট প্যাসেজ, ডিজনি এ্যভিনিউ, বর্ণিল ছাতার ছাদ, ফুলের তৈরি বুর্জ আল খালিফা, রেলগাড়ি, সাইকেল, বরফ ঘর, পিরামিড, চলমান পানির টেপ, ময়ূরপক্সক্ষী, প্রজাপতি, জাহাজ, বিছানা, পাহাড়, ঘোড়ার গাড়ি, সাগর, দোলনাসহ নানা কিছু। ফুলের সবচেয়ে বড় দেয়াল, ফুলের মানবাকৃতি দিয়ে নারী-পুরুষসহ নজরকাড়া নানা জিনিস তৈরি করা হয়েছে। বানানো হয়েছে মিকি মাউস। ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আরব আমিরাতের জাতীয় পাখির আকৃতি। কলস থেকে পানির মতো করে ফুল ঝরছে এমন দৃশ্য দেখলে ভিমরি না খেয়ে কী উপায় থাকে। স্নান করে চুল শুকানো তরুণীর আদলও দেয়া হয়েছে ফুল দিয়ে। চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল। ফুলের দৃশ্য নজর কাড়ে। মন নাচে। প্রাণ ভরে উঠে। তবে একেবারে চমকে উঠার মতো একটি ব্যাপার ঘটানো হয়েছে ফুল দিয়ে আস্ত বিমান বানিয়ে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এ ৩৮০ মডেলের এয়ারবাস বানিয়ে ফেলা হয়েছে ফুল দিয়ে। প্রথম দেখায় মনে করেছিলাম আমাদের নিমতলা বিশ্বরোড মোড়ের আদলে হয়তো পুরানো কোন বিমান এনে সৌন্দর্য বাড়াতে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরে যখন আসল ব্যাপারটি বুঝলাম, তখন চোখ কপালে উঠার উপক্রম হলো।
ভারতের এক বিনিয়োগকারী নাকি বাগানটি গড়ে তোলেন। শুধু বাগানই নয়, রয়েছে আরো নানা কিছু। দর্শনার্থীদের মন ভোলানোর নানা আয়োজন রয়েছে বাগানটির পরতে পরতে। বাগানে খাঁচায় রাখা হয়েছে নানা ধরনের পাখি। ফুলের বাগানে রকমারি পাখির কলকাকলী মরুর বুকে ভিন্ন এক আবহ তৈরি করেছে। দিনের বেলায় বাগানটির যেই জৌলুস রাতে নাকি তা আরো বেড়ে যায়। নানা ধরনের আলোকসজ্জা আর মিউজিক রাতের বেলায়ও বাগানটিকে দুনিয়ার অন্যতম সেরা স্থাপনায় পরিণত করে বলেও জানালেন ক্যাপ্টেন মোস্তফা। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে আলোর খেলা শুরু হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই বাগানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফুলের মন ভরিয়ে দেয়া সুবাসে পবিত্র এক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় মন। হিন্দি সিনেমার বেশ কয়েকটি গান এই বাগানে চিত্রায়িত হয়েছে বলেও জানতে পারলাম। গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে শুধু শুধু যে একটি স্থাপনার নাম উঠে না তা যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাগানটির পরতে পরতে। আমার মনে হলো, এই মিরাকল গার্ডেনই বর্তমান দুনিয়ার অন্যতম অত্যাশ্চার্য একটি স্থাপনা। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করে এমন একটি ফুলের বাগান গড়ে তোলা যায়, তাও আবার মরুভূমিতে! কি করে সম্ভব? কি করে?
(চলবে)
লেখকঃ চিফ রিপোর্টার, দৈনিক আজাদী।

x