রাঙামাটিতে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আগুনে পুড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে করে রাঙামটির সড়কগুলোতে রাতে চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে স্থানীয় টেক্সিচালকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সামগ্রিক বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, সবর্শেষ গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কাপ্তাইয়ের বরইছড়ি–ঘাগড়া সড়কে যাত্রীবেশে দুই ব্যক্তি চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। পথিমধ্যে চালককে ‘বন্দুক দেখিয়ে’ গাড়িটি বরইছড়ি–ঘাগড়া সড়কে নিয়ে যান। এরপর সড়কের কুকিমারা এলাকায় একটি আমবাগানে অটোরিকশাটি নিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুই দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। জড়িতদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ৯ জুন রাতে রাঙামাটি–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পোড়ানো হয়েছিল। ওই অটোরিকশার চালক বানেশ্বর দাশ জানান, ওইদিন বনরূপা থেকে কয়েকজন যাত্রীমিলে ঘাগড়া বাজার পর্যন্ত একটি গাড়ি (অটোরিকশা) ভাড়া করেন। দেপ্পোছড়ি পৌঁছানোর পর একজন গাড়ি দাঁড় করানোর জন্য সিগন্যাল দেন। গাড়ি দাঁড় করানোর পর চাঁদার টোকেন দেখতে চান। টোকেন দেখাতে না পারায় মারধর করে পরে গাড়িতে আগুন দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় পর ৯ জুন রাতে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা শহরের অভ্যন্তরীণ টেক্সি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল রাঙামাটি জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণের জন্য প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে সমিতি।
এর আগে, ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আসামবস্তি–কাপ্তাই সড়কের জীবতলী আগরবাগান এলাকায় একটি সিএনজিঅটোরিকশা পুড়িয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তখন অটোরিকশা চালকের বাৎসরিক ‘চাঁদার টোকেন’ না থাকার অভিযোগে অটোরিকশা পুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এ ঘটনার পর প্রায় ৯ মাস এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও গত ৯ ও ১৫ জুন রাতে আরো দুইটি অটোরিকশা পুড়ানোর ঘটনায় চালকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত দুইটি পৃথক ঘটনায় জড়িত কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃক্সখলা বাহিনী।
জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, চালকদের জীবন এখন হুমকির মুখে। তাদের জীবন শঙ্কা নিয়ে রাস্তার বেরুতে হয়। বার–বার সিএনজি অটোরিকশা পুড়িয়ে দেবে আর আমরা প্রতিবাদ জানাব আন্দোলন করব–এভাবে আর কত? এর একটা সমাধান দরকার। আমরা শীঘ্রই বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচির দিকে যাবে।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, গত সপ্তাহ আর গতকালের (বৃহস্পতিবার) দুটি ঘটনাই প্রায় একইভাবে ঘটেছে। যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে একপর্যায়ে গাড়ি থামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। দুইটি আগুনের ঘটনার পরই আমরা ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলেছি। একটি ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এই বিষয়ে আইনশৃক্সখলা কমিটির সভাতেও আলোচনা হয়েছে। আমরা শীঘ্রই সামগ্রিক একটা ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন, দুইটি ঘটনার পরপরই আইনশৃক্সখলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং ওইসব এলাকায় আইনশৃক্সখলা বাহিনীর টইল আরো বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলা সড়কের আলোর ব্যবস্থা আরো বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের জেলা আইনশৃক্সখলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি–পাহাড়ে যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, তারাই এসব ঘটনা সংঘটিত করছে। এসব বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।














