ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি করছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারা। নির্বাচন ভবনে যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আটক করা হয় রাহুল, প্রিয়াংকাকে। রাত ১০টার কিছু পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করা হয়েছিল ভাই–বোনকে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুলকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলেছে পুলিশ। বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস সাংসদকে টেনে নিয়ে বাসে তোলা হচ্ছে। পরে রাহুলকে বাসের জানালা দিয়ে উঁকি দিতে দেখা যায়।
গতকাল সকাল ১১টায় নির্বাচন ভবন অভিমুখে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ। পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রাহুল, অভিষেকরা। সেখান থেকে প্রিয়ঙ্কাসহ বেশ কয়েক জনকে আটকও করে পুলিশ। পরে আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে আকাশবাণী অফিস চত্বরের ভিতর দিয়ে নির্বাচন ভবনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল। কিন্তু সেখানেও পুলিশ তাকে আটকে দেয়। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, আমি এখানে আছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আমার সঙ্গে আরও ৩০০ জন সাংসদ এখানে এসেছিলেন। তারাও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চান। অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন।
কংগ্রেস এঙে রাহুল গান্ধীকে পুলিশ ‘জোর করে’ নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছে, সবকিছু মনে রাখা হবে। এর আগে কংগ্রেস এঙে একটি পোস্টে লিখেছিল, মোদী–শাহ আকাশবাণী ভবনে পুলিশ পাঠিয়েছে, যারা জোর করে বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধী এবং সাংসদদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মোদী সরকার পুলিশি দমনের মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করতে চায়। কিন্তু মনে রাখবেন, এই গর্জন আর থামানো যাবে না। ‘গাদ্দার’ জ্ঞানেশকে যেতে হবে। ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ভারতীয়দের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে প্রক্রিয়া চলছিল, তা এখন ভারতে গণতন্ত্র হত্যার রূপ নিয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির একমাত্র দাবি ছিল সরল ও স্পষ্ট, ভারতের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি বৈঠক। এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থার লক্ষণ, যা জানে যে তার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।











