ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার এখন ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে শুরু হওয়া বিদ্রোহ ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। একদিকে চারজন মন্ত্রী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন, অন্যদিকে ৮৬ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
দলের ভেতরে এই নজিরবিহীন চাপের মধ্যে স্টারমারের নেতৃত্ব এখন সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেও স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কেউ তাকে দায়িত্বে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন, এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
গতকাল সর্বশেষ সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুবায়ের আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, সামপ্রতিক ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাজ্যের মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার ওপর বিশ্বাস হারিয়েছে। এর আগে সুরক্ষা মন্ত্রী জেস ফিলিপস, কমিউনিটি বিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহ, এবং অ্যালেঙ ডেভিস–জোন্স পদত্যাগ করেন। অ্যালেঙ ডেভিস–জোন্স তার পদত্যাগপত্রে স্টারমারকে দেশের স্বার্থে সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানান।
একই সময়ে লেবার পার্টির ভেতরে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয় স্টারমারের সামপ্রতিক এক ভাষণ। দলের একাধিক এমপি সেই ভাষণকে ‘অবিশ্বাস্য রকম বাজে’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। বর্তমানে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা এমপির সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তারা ছাড়াও আরও অনেকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা উচিত।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, লেবার এমপিদের ২০ শতাংশ বা অন্তত ৮১ জন যদি বিকল্প নেতৃত্বের পক্ষে সমর্থন দেন, তাহলে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু হতে পারে। সেই সংখ্যা এখন অতিক্রম করেছে বিদ্রোহীরা। যদিও এখনো পর্যন্ত তারা একক কোনো বিকল্প নেতার পক্ষে একমত হতে পারেননি। সংকটের মধ্যেও স্টারমার এখনো সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেননি। সামপ্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা নেই। বরং সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে দলের ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ–প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যানিড বার্নহ্যামের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
গত সপ্তাহে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর থেকেই মূলত এই সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডজুড়ে দলটি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারায়। সেই ব্যর্থতার দায় এখন সরাসরি স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপানো হচ্ছে। এদিকে সরকার ও দলের ভেতরের এই অস্থিরতা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে রিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাকের পর আরেক প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।













