ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। দল–মত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এডিস মশা দল–মত বা শ্রেণি–পেশা দেখে কামড়ায় না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি গতকাল বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরের ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে পরিচালিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। এ কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও এডাল্টিসাইড ছিটানোর পাশাপাশি নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি রাণীর দীঘি পরিষ্কার করা হয় এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন মেয়র।
ডা. শাহাদাত বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা স্প্রে করছি, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং লার্ভিসাইড প্রয়োগ করছি। সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র, পলিথিন, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। জ্বর হলেই যে ডেঙ্গু হবে, বিষয়টি এমন নয়। চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে দুই–তিন দিন ধরে জ্বর অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
মেয়র জানান, চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। চসিকের মেমন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা হয়েছে এবং বিনামূল্যে এনএস–১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।













