চট্টগ্রাম বন্দরকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পেপারলেস ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের সেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যবসা ও ব্যবহারবান্ধব করতে ভ্যাসেল বিল, কন্টেনার ও কনসাইনি বিল, পেমেন্ট, গেট পাস, ট্রাক প্রবেশ ও বহির্গমন, ডেলিভারি, ই–এনওসি, স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টসহ একের পর এক কার্যক্রম অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের সরাসরি অফিসে এসে কাগজপত্র জমা দেওয়া, বিল পরিশোধ কিংবা অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন ক্রমেই কমে আসছে। একইসাথে বন্দরের প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের জট কমানোর পাশাপাশি সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সমপ্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় বন্দর সেবার ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বিদ্যমান অনলাইন সেবাগুলো আরও সমপ্রসারণ, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন এবং যেসব কার্যক্রম এখনো আংশিকভাবে ম্যানুয়াল রয়েছে সেগুলো দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। ২০২৫ সালে বন্দরটি রেকর্ড ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস কন্টেনার, ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ টন কার্গো এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। কন্টেনার হ্যান্ডলিং আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশের সমুদ্রপথে আসা–যাওয়া করা সাধারণ কার্গোর প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কন্টেনারভিত্তিক আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯৮ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।
সূত্র জানায়, বন্দরের এই বিপুল কর্মযজ্ঞের সাথে শিপিং এজেন্ট, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কন্টেনার পরিবহনকারী, ব্যাংক, কাস্টমস, টার্মিনাল অপারেটরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। ফলে বন্দরের একটি সেবা ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত হলেও তার সুফল পেতে হলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাকেও একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে হবে। এ কারণেই এখন বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইন সেবা চালুর পরিবর্তে পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ভ্যাসেল বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। এবার কন্টেনার ও কনসাইনি বিলও শতভাগ টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম বা টিওএস –এর মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বিল তৈরি থেকে শুরু করে অর্থ পরিশোধ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সরাসরি ডিজিটাল সংযোগ স্থাপিত হবে।
বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারও এই ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেখানে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরেও বন্দর ব্যবহারকারীরা অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং টিওএস–এর মাধ্যমে অপারেশন ও গেট কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কন্টেনার ডেলিভারি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার কাজও এগিয়েছে বলে উল্লেখ করে বন্দর সূত্র জানায়, গত জুলাইয়ে অত্যাধুনিক টিওএস–এর মাধ্যমে আমদানি কন্টেনারের ডেলিভারি অর্ডার আবেদন থেকে শুরু করে কন্টেনার গেট–আউট পর্যন্ত পুরো ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া পেপারলেস করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় টিওএস–এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে আমদানিকারকেরা অনলাইনে ডকুমেন্টের অগ্রগতি দেখতে পারবেন এবং ম্যানুয়াল কাগজপত্রের ব্যবহার একেবারে কমে আসবে বলেও সূত্রটি মন্তব্য করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্দরে অনলাইন গেট পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়। টিওএস–এর সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থায় পণ্য পরিবহনের জন্য গেট পাসের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বন্দরে পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বহির্গমনকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি সময় ও যানজট কমাতে সহায়তা করছে। এখন এই ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে টিওএস–এর মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট এবং ই–গেট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বন্দরে কখন কোন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কন্টেনারমুভার প্রবেশ করবে, কোন কন্টেনার বহন করবে এবং কখন সেটি বের হবে–এসব কার্যক্রম পূর্বনির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে গেট ইন ও গেট আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন এলাকায় যানজট কমানো বলে উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার পরিবহনের সঙ্গে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান যুক্ত থাকে। কোনো কাগজপত্র, অনুমোদন কিংবা ডেলিভারি প্রক্রিয়ার একটি ধাপও ম্যানুয়াল থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে একই সঙ্গে বাড়ে পরিবহন ব্যয় ও সময়। ডিজিটাল স্লট, অনলাইন টিকিট এবং ই–গেট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ইআইআর বা ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট–ও ই–গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে উল্লেখ করে সূত্র জানিয়েছে, এতে একই সঙ্গে ড্রপ টিকিট ও পিকআপ টিকিট টিওএস–এর সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে। ফলে একটি কন্টেনার পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নথি ও অনুমোদনকে আলাদা আলাদা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার পরিবর্তে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লোর মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সূত্র জানিয়েছে, এখানে রিয়েল–টাইমে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেশন এবং কনফার্মেশনের ব্যবস্থা করা হবে। বন্দর ব্যবহারকারী একটি সেবার জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, বিল তৈরি এবং নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হবে না। এতে বন্দর সেবায় সময় কমার পাশাপাশি একই তথ্য বারবার সরবরাহের প্রয়োজনও কমে যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম যুক্ত করার কাজও চলছে বলে উল্লেখ করে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানিয়েছেন, এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহারের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি অনলাইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিডি ইন্টিগ্রেশন করা হবে। ফলে বন্দরের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কন্টেনার ডিপো ও কাস্টমস–সংক্রান্ত কার্যক্রমের মধ্যে তথ্যপ্রবাহ আরও দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় হবে।
বকেয়া মাশুল আদায়েও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে বন্দর সচিব বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মাশুল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে বকেয়া অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল তদারকি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবও দ্রুত পাওয়া যাবে। একইসাথে টিওএস–এর মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদনের ব্যবস্থাও অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে।
ব্রেক বাল্ক অপারেশনকেও দ্রুত অনলাইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বন্দর ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ কন্টেনারভিত্তিক হলেও বিপুল পরিমাণ পণ্য এখনও ব্রেক বাল্ক হিসেবে হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এই কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থায় এলে বন্দর পরিচালনার সামগ্রিক কার্যক্রম আরো সমন্বিত হবে।
বে টার্মিনালকে সামনে রেখেও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে বন্দর সচিব জানান, সেখানে স্লট–বাই–স্লট ম্যাপিং করে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বে টার্মিনালে ট্রাকের প্রবেশ, পার্কিং ও নির্দিষ্ট স্লট ব্যবহারের বিষয়টিও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। বড় পরিসরে টার্মিনাল পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্লটভিত্তিক ব্যবস্থাপনা যানবাহনের অযাচিত জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বন্দরের টিওএস–ভিত্তিক ডিজিটাল অপারেশন দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে বলে উল্লেখ করে বন্দর সচিব জানান, বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের টিওএস ড্যাশবোর্ডে জাহাজের কার্যক্রম, গেট ইন–আউট, বার্থ ব্যবহার, কন্টেনার ইয়ার্ড, যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অপারেশনাল তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো–সিপিএ স্কাই চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বন্দরের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এতে ডিজিটাল রাডার, স্বয়ংক্রিয় ভ্যাসেল ট্র্যাকার এবং রিয়েল–টাইম তথ্য পর্যবেক্ষণের সুবিধাও রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বন্দর চেয়ারম্যানও ডিজিটালাইজেশনকে বন্দর আধুনিকায়নের প্রধান উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, টিওএস এবং ই–গেট পাস ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দর সেবার সমন্বয় বাড়ছে এবং ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা কমছে। এরই মধ্যে মাসে গড়ে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট এন্ট্রি পরিচালিত হচ্ছে এবং এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ড রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সেবা ব্যবস্থায় কাগজের ব্যবহার একেবারে কমে যাবে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, এতে একই তথ্য একাধিক দপ্তরে আলাদাভাবে সরবরাহের প্রয়োজন পড়বে না। একটি কন্টেনার বন্দরে আসা থেকে শুরু করে বিল তৈরি, অর্থ পরিশোধ, কাস্টমসের অনুমোদন, ডেলিভারি, ট্রাকের প্রবেশ এবং শেষ পর্যন্ত গেট দিয়ে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে অনুসরণ করতে পারবে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় ও পরিবহন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বন্দরের রাজস্ব আদায় দ্রুততর হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। একইসাথে কোন সেবার জন্য কত সময় লাগছে, কোথায় বিলম্ব হচ্ছে, কোন পর্যায়ে অর্থ বকেয়া রয়েছে কিংবা কোন কন্টেনার কোন অবস্থায় রয়েছে–এসব তথ্য রিয়েল–টাইমে পাওয়া গেলে বন্দর ব্যবস্থাপনায়ও নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।












