ওজন পরিমাপে বাটখারার যুগ পেরিয়েছে অনেক আগে। নিখুঁত ওজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি নিয়ে এসেছে ডিজিটাল স্কেল। পণ্য মাপার ক্ষেত্রে এসব ডিজিটাল স্কেলেও এখন প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। অনেক সময় দোকানদারের সাথে তর্ক–বিতর্কও হচ্ছে। এসব ওজন স্কেলের তদারকির দায়িত্ব পড়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মেট্রোলজির বিভাগের ওপর। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি জনবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ে সেভাবে তদারকি করতে পারে না। তদারকিতে ঘাটতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর সচেতনতার অংশ হিসেবে মেট্রোলজি দিবস পালন করে। বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে নগরীর আগ্রাবাদে বিএসটিআইয়ের কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে প্রতিনিয়ত ওজনে ঠকছেন ভোক্তারা। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি কিংবা ২৫ কেজি পণ্যের বস্তায় কখনো সঠিক পরিমাণ পণ্য পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, মাছ–মাংস কিংবা সবজির বাজারেও ওজনে ঠকছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন সময় ওজনের কারচুপির দায়ে বিএসটিআই অভিযানে নামে। অভিযানে জরিমানাও করা হয়, কিন্তু পরে আবার আগের অবস্থা চলতে থাকে।
জানা গেছে, অসাধু বিক্রেতারা ডিজিটাল স্কেলের সাথে এক ধরনের স্প্রিং সংযুক্ত করেন। ওজন মাপার সময় কৌশলে ওই স্প্রিং টান দিয়ে ওজন বাড়ানো হয়। কয়েকবার প্রশাসনের অভিযানে এমন কারচুপি ধরা পড়েছে। বাজার করতে গেলে সবার তাড়া থাকে। তাই অনেকের পক্ষে এসব সূক্ষ্ম কারচুপি ধরা সম্ভব হয় না।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ–পরিচালক (মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান মো. মোমেন উস সাজ্জাদ আজাদীকে বলেন, আমরা বছরে একবার ব্যবসায়ীদের ওজন স্কেল নিয়ে বিএসটিআইয়ে লোগো সম্বলিত স্টিকার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে থাকি। তারপরও নির্দিষ্ট করে যদি কেউ অভিযোগ দেন, সরেজমিনে গিয়ে তদারকি করে আসি। আমাদের মেট্রোলজি উইং থেকে নিয়মিত তদারকিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সার্ভিল্যান্স টিমের পাশাপাশি অভিযান চালানো হয়। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন আজাদীকে বলেন, বিএসটিআইয়ের লোকজন আমাদের সবসময় বলেন, তাদের জনবল নেই, লজিস্টিক নেই। আসলে বিদ্যমান যে জনবল আছে, সেই জনবলের কাজও হচ্ছে না। সব কথার এক কথা হচ্ছে, কাজের সদিচ্ছা থাকতে হবে। সদিচ্ছা থাকলে সব সম্ভব। ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই–খাতুনগঞ্জে অনেক পণ্য এখনো মণ হিসেবে বেচাবিক্রি হচ্ছে। এই যুগে তো মণে পণ্য বেচাবিক্রি হওয়ার কথা নয়। তদারকি যারা করবেন তারা যদি চুপ থাকেন, ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ নেবেন।












