চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে মাটিযুক্ত নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে সড়কের স্থায়িত্ব, জননিরাপত্তা ও নির্মাণমান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লোহাগাড়ায় প্যাকেজ৩’র আওতাধীন কাজে এ মাটিযুক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সওজ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার অংশ প্যাকেজ৩’র আওতাধীন। এই প্যাকেজে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে প্রশস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ জাঙ্গালিয়া এলাকায় ৯০০ মিটার মাঝখানে ডিভাইডারসহ চার লেনে উন্নীত হবে। উক্ত প্যাকেজের কাজ পায় এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। যার বরাদ্দ ৩০ কোটি টাকা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সড়ক উন্নয়নের নামে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের বালু ব্যবহারের কারণে কিছুদিন পরেই সড়কের পাশ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্বল অংশগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। কাজের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। সঠিকভাবে মনিটরিং না থাকায় ঠিকাদার দায়সারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক শুধু একটি আঞ্চলিক সড়ক নয়। এটি দেশের পর্যটন, ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজে যদি অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তবে তা বড় ধরনের দুর্নীতি ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। গত রোববার চুনতি ইউনিয়নের খানদিঘী এলাকাসহ একাধিক স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে তার অধিকাংশই মাটিযুক্ত ও নিম্নমানের। কোথাও কোথাও শুকনো বালুর পরিবর্তে ভেজা বালু দিয়ে ভরাট কাজ করতে দেখা গেছে। মহাসড়কে সামান্য ভুল মানেই বড় দুর্ঘটনা। নিম্নমানের কাজ হলে মানুষের জীবন হুমকিতে পড়বে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে সচেতন মহল।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নুর ইসলাম জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বালু সংকট ও ঈদুল আযহার আগে সড়কের একপাশের কাজ শেষ করার জন্য তাগদা থাকায় একটু বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর মাটিযুক্ত বালু অপসারণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৫ টাকার নতুন নোটে ‘গ্রাফিতি- ২০২৪’
পরবর্তী নিবন্ধক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে গুলি, দুই কিশোর সন্দেহভাজনসহ নিহত ৫