ডা. শাহাদাতের প্রশাসক নিয়োগ বাতিল চায় এনসিপি

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:০১ পূর্বাহ্ণ

গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসক হওয়ার আগ পর্যন্ত ৮ মাস চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেন যে দায়িত্ব পালন করেছেন তা ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি। এসময়ে মেয়র হিসেবে তিনি যে বেতন, ভাতা গ্রহণ করেছেন সেগুলো ফেরত দেয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া ডা. শাহাদাতকে চসিকের প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলেও মনে করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ। ডা. শাহাদাতকে প্রশাসক করার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দুপুরে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। চকবাজারস্থ চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব।

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ডা. শাহাদাত ২০২১ সালে ফ্যাসিস্ট আমলে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। ওই হিসেবে ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। যেদিন মেয়াদ শেষ হয় সেদিনই গণতান্ত্রিকভাবে বিপ্লব উদ্যানে সংবাদ সম্মেলন করে খুবই ভদ্র ভাষায় উনাকে রিমাইন্ডার দিয়েছিলাম– মেয়াদ শেষ হওয়ায় উনি যেন পদত্যাগ করেন এবং আমরা সবাই যেন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিই। কিন্তু উনি ওই সময় দফায় দফায় মানুষকে হাইকোর্ট দেখান। বলেছেন কোর্টের রায়ে মেয়র হয়েছেন এবং ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ আছে। এখনো ২০২৯ সালে আসেনি, তার আগেই প্রজ্ঞাপন দিয়ে উনাকে মেয়র থেকে সরানো হল এবং প্রশাসক করা হল। এখানেই আমাদের প্রশ্ন, কি এমন ঘটনা ঘটল হঠাৎ করে মেয়র থেকে প্রশাসক হলেন। সরকার যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়, তাহলে আদালত অবমাননা করেছে। সে জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।

আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, শাহাদাত হোসেনকে কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রমাণ হয়েছে এতদিন তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সেটা অবৈধ। ফেব্রুয়ারির পর থেকে মেয়র পদে থেকে তিনি যেসব বেতন–ভাতা গ্রহণ করেছেন সেগুলো অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই। তিনি বলেন, ডা. শাহাদাতের আগামীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার উচ্ছে থাকলে প্রশাসক পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। কারণ তিনি সিটি কর্পোরেশনকে ব্যবহার করে নির্বাচনের সমস্ত প্ল্যান সাজিয়ে রাখবেন। যিনি টুর্নামেন্টে খেলবেন তিনি যদি আগে থেকেই টুর্নামেন্টের আয়োজক হয়ে বসে থাকেন তাহলে তো উনার আর খেলার দরকার নেই। আগামী নির্বাচনে যদি অংশ নেন সেটা স্বচ্ছ হবে কীনা, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে কীনা একটা প্রশ্ন থেকে যায়। এনসিপি মহানগর সভাপতি মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে চসিকের প্রশাসক পদে এই বিতর্কিত নিয়োগ পুনর্বিবেচনা না করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের হোসেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার চসিকের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর আগে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। একই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ গ্রহণ শেষে ৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি। মেয়র পদে দায়িত্বপালনকালীন সময়েই তাকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাহ আমানত সেতু টোলমুক্ত করার দাবি সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর
পরবর্তী নিবন্ধসাঁইদাইর গাউছিয়া তৈয়বিয়া দিলোয়ারা বেগম সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সভা