চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ বন্ধু নিহতের ঘটনায় ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার মো. রিপনকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন রশিদ বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব-৭ এর একটি দল। আটক রিপন (৩১) ভোলা জেলার লালমোহন থানার মহেশখালী এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যান তিনি। তাকে আটক করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব। ডবলমুরিং থানার রশিদ বিল্ডিং এলাকায় তিনি আত্মগোপন করেছেন-এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আসেন তিনি। নিমতলা বিশ্বরোড এলাকায় বসবাস শুরু করেন। কাজ নেন গাড়ির হেলপারের। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হেলপারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তার ডান পা পঙ্গু হয়ে যায়। ২০১৫ সালে ভারী যানবাহন চালানোর জন্য বিআরটিএতে লাইসেন্সের আবেদন করেন। ডান পা পঙ্গু হওয়ায় বিআরটিএ তাকে হালকা যানবাহনের লাইসেন্স দেয়। লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও ভারী যানবাহন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। গত সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আধুনগরে ট্রাক-কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে যায় কারটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান চারজন। হাসপাতারে নেয়ার পথে গুরুতর আহত আরেকজনের মৃত্যু হয়। রিপনের গাড়ি চালানোর লেইন সড়কের বাঁ পাশে হলেও তিনি ডান পাশে এসে চাপা দেন কারটিকে। বদলি চালক হিসেবে ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।
র্যাব জানায়, ট্রাকটির মূল চালক ছিলেন নুরনবী। সেদিন পেকুয়া মেরিন ড্রাইভ ও ফোর লেইনের চলমান সড়ক নির্মাণের পাথর বোঝাই করে নেয়ার কথা ছিল নুরনবীর। কিন্তু টানা ১০ দিন নির্ঘুম থেকে গাড়ি চালানোর কারণে ক্লান্ত থাকায় তিনি সেদিন গাড়ি চালাননি। সেই গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নেন রিপন।













