টেকনাফে অপহরণকারীর কবল থেকে ছেলেকে রক্ষা করলো বাবা

টেকনাফ প্রতিনিধি | রবিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৩ at ৭:৪১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি দুর্বৃত্তের কবল থেকে ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্র আবদুল আজিজকে রক্ষা করেছেন তার বাবা মোহাম্মদ হোছন। অপর এক অপহরণের ঘটনায় ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ৩ যুবককে মুক্তি দিয়েছে অপহরণকারীরা।

দমদমিয়া এলাকার ৩ যুবক রিদুয়ান সবুজ, মোস্তফা ও রহমত উল্লাহকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় মুক্তিপণে আজ রবিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে মুক্তি দেয় দুর্বৃত্তরা। মুক্তিপণ নেওয়ার জন্য তাদেরকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের শরীরে মারধরের জখম রয়েছে। এর আগে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা।

গত ২২ মার্চ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া ন্যাচার পার্ক এলাকায় ৩ যুবককে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

এছাড়া গত ২৩ মার্চ দিনগত রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদ হোছনের বাড়িতে অপহরণ প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়।

মোহাম্মদ হোছন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মাগরিবের পর থেকে পড়ার টেবিলে স্কুলের পড়া শিখছিল আব্দুল আজিজ। পড়া শেষ করে রাত ৯টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির উঠানে বের হলে হঠাৎ মুখে কালো কাপড় পরা সশস্ত্র ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে ফেলে।

এসময় তার চিৎকারে বাবা হোছন ঘর থেকে দ্রত বের হলে তাকেও ধরার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা কিন্তু সাহসী হোছন সু-কৌশলে দুইজন দুর্বৃত্তের লম্বা বন্দুক ধরে টান দিলে ছেলে আজিজকে ছেড়ে দেয় তারা। তখন আজিজ দৌড়ে বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে।

এসময় অপর দুর্বৃত্তের বন্দুকের আঘাতে আজিজের হাত ভেঙ্গে যায়।

এদিকে, দুর্বৃত্তের সাথে ধস্তাধস্তি ও বাড়ির সকলের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তের দল হোছনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তাকে ফেলে পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

এলাকাবাসী আরো জানায়, ১৫-২০ জনের দুর্বৃত্তের দল পাহাড়ে অবস্থান করছে দীর্ঘ দিন ধরে। সেখানে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ চরম আতংকে দিনাতিপাত করছে।

১৯ মার্চ জাদিমুড়াস্থ জুম্মাপাড়ার একজন কৃষককে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। তাদের মধ্যে কৃষক ছৈয়দ উল্লাহ ৫ দিন পর ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসে। এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রচারিত হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের।

পবিত্র রমজান মাসে অপহরণ আতংকে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় আজ রবিবার স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. আলী স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করেছেন।

এসময় তিনি সম্মিলিতভাবে দুর্বৃত্তের মোকাবেলা করার সাহস যোগান এবং রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য ৪টি দলে বিভক্ত করে পাহারা দল গঠন করেন।

মোহাম্মদ আলী মেম্বার জানান, রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা পাশের পাহাড়ে অবস্থান করে শান্ত এলাকাকে অশান্ত করে তুলছে। যে কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। তারা সশস্ত্র হওয়ায় ভয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।

তাদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে অপহরণ চক্রের বেশ ক’জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ উপজেলার বাহারছড়ার ইউপির জাহাজপুরা এলাকা থেকে ৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তারা হলেন কলেজ শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন (১৭), রশিদ আলম (২৬), জানে আলম (৪৫), জাফর আলম (৪০), জাফরুল ইসলাম (৩০), ফজল করিম (৩০) ও আরিফ উল্লাহ (৩০)।

তারা সকলেই বাহারছড়া ইউপির পূর্ব মাঠ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশি অভিযান ও পৃথক মুক্তিপণের মাধ্যমে তারাও ফিরে আসে।