দেশে হামের টিকার সংকট এবং এ রোগের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুমৃত্যুর কারণ ও দায়িত্বে কারও গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, টিকার সংকট ও হামের ঘটনায় কোনো তদন্ত হবে কিনা? জবাবে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি এখন একটু বিস্তারিতটা না বলি, তদন্ত হবে। এটা আমাদের উপরে আস্থা রাখেন। কাজ করছি।
সর্বোচ্চ লেভেল থেকেও বলছি, তদন্ত করছি। ইনশাল্লাহ তদন্ত রিপোর্ট আপনারা জানতে পারবেন। কেন আমাদের এই বাচ্চাগুলো হারালাম, কী কারণে, কোথায় সমস্যা ছিল, আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা বা আমাদের কর্মকর্তাদের কিংবা দায় দায়িত্ব নির্ধারণ হবে– সবই একটা তদন্ত হলে যা হয়, সবকিছুই হবে ইনশাল্লাহ। এটা আপনারা দেখবেন। খবর বিডিনিউজের।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়ার পর টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কোভিড পরবর্তী অব্যবহৃত অর্থ থেকে এই টাকা ব্যবহারের কথা বলেন তিনি। সচিবের ভাষ্য, ৩১ মার্চ জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। পরদিন সভায় ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় সংক্রমণ বেশি থাকার তথ্য আসে। পরে ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নিয়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকাদান শুরু হয়। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যাপ্ত টিকা আসতে শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল ও সিলেট বিভাগে টিকার আওতা তুলনামূলক কম। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত ইপিআই সূচির বাইরে তিন বা চার বছর বয়সী কোনো শিশু এক ডোজও না পেলে তারা টিকা পাবে কি না, এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, চলমান থাকবে এবং পাবে। এতে কোনো অসুবিধা হবে না।
টিকা চলমানও থাকবে এবং পাবে, আমরা এই নিশ্চয়তা আপনাকে দিতে পারি। সচিব বলেন, পরে আরও ৪১৯ কোটি টাকার টিকা কেনার চাহিদা দেওয়া হয়েছে এবং সে বিষয়ে কাজ চলছে। টিকা বহনকারী পোর্টারদের বেতন–ভাতার সমস্যা নিয়ে সচিব বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।














