সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, সিআরআইয়ের অনুকূলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ, আয়কর সুবিধা প্রদান এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। খবর বাসসের।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন–সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩–২০১৪ থেকে ২০২৩–২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান নিয়ে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত করা হ”েছ।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বর ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪–এর বিপরীতে কর অঞ্চল–৬, ঢাকার সার্কেল–১১৬–এ সংরক্ষিত ২০২৫–২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স’ায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। আদালত আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে নথি জব্দের আদেশ দেন।












