টানা বর্ষণ ও সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়ে আনোয়ারার পারকি সৈকত হুমকিতে পড়ে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা । আর তাৎক্ষণিকভাবে পাউবো’র জিও টিউব ডাম্পিং করে সৈকতের দোকানপাট, মনোমুগ্ধকর ঝাউবাগান ও বাঁধের ভাঙন রোধে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পারকি সৈকত। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মাঝে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে সৈকতের একশত মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় জিও টিউব বসানো হয়েছে। আরও ছয় শত মিটার জিও টিউব বসানো প্রক্রিয়াধীন আছে। সরেজমিনে পারকি সৈকতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর সাগরে জোয়ারের পানি বেড়ে পারকি সৈকতের ঝাউবাগান, দোকানপাট চরম ঝুঁকিতে পড়ে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েন স্থানীয় সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় পারকি সৈকত রক্ষায় এগিয়ে আসে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা সৈকতের চরের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের বিভিন্ন অংশে জিও টিউব বসিয়ে দিলে দুর্যোগের বড় ক্ষতি থেকে পারকি সৈকত রক্ষা পায়।
পারকি সমুদ্র সৈকত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, একদিকে ভারী বর্ষণ অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল এবং সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বেড়ে সৈকতের কয়েকশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন জীবিকা হুমকিতে পড়ে। একই সাথে বেড়িবাঁধ ও সৈকতের ঝাউবাগানও চরম ঝুঁকিতে পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা পারকি সৈকত পরিদর্শনে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জিও টিউব বসিয়ে সৈকত ও ব্যবসায়ীদের ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন।
তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে সৈকত রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মী আরাফাত খান আমু বলেন, পারকি সৈকত রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এ সৈকতের বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় সৈকতের মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় ঝাউ বাগানের শত শত গাছ সাগরের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তবে আমাদের দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত অরক্ষিত সৈকতে চলতি বর্ষা মৌসুমে আরো জিও টিউব বসানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, পারকি সমুদ্র সৈকত হচ্ছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। তাই সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি স্থায়ী মেগাপ্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেছে। এ প্রকল্প অনুমোদনের পর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে পারকি সৈকতের ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে একশত মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে জিও টিউব বসানো হয়েছে। আরো ছয়শত মিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে টিউব বসানো হবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, ‘পারকি সমুদ্র সৈকতকে আরো জনপ্রিয় করতে বর্তমানে প্রায় নব্বই কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ সৈকতকে সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে সৈকতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, ‘পারকিসহ আনোয়ারার উপকূলের ভাঙনরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। পারকি সৈকতকে রক্ষায় ‘পারকি সি–বিচ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে পারকির চিত্র।’











