সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেছেন, আগে থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে অন্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় অতীতে সংগঠনের নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের জন্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজন কান্তি সরকার বলেন, কল্যাণ ফ্রন্ট বিএনপির অঙ্গসংগঠন নয়। তবে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা দলের সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন, তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরও বাদ দেওয়া যাবে না। রাজনীতি মানে শুধু দলীয় লোকদের নিয়ে চলা নয়। নির্বাচিত হওয়ার পর সবার জন্য কাজ করতে হয়। জনগণের দায়িত্ব পালন করতে হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায়। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তখন তারা নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে দেশে বসবাসের নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন। বিএনপি তাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজায় আর্থিক সহায়তা, পাঁচ দিনের ছুটি এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আগামী দিনে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারকে জানাতে হবে। সরকার আন্তরিকভাবে সেসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না হলে নিজেদের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। আন্দোলন–সংগ্রামে রাজপথে বিএনপির সঙ্গে অনেক কল্যাণ ফ্রন্টের নেতা সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের অবদান আমি জানি। তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমালের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম–মহাসচিব অর্জুন কুমার নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুমার বড়ুয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুশীল বড়ুয়া, বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি চন্দ্রগুপ্ত বড়ুয়া, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অপু চৌধুরী আকাশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু, উত্তর জেলার আহ্বায়ক জিতন্ত্র নাথ নাঠু, দক্ষিণের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিপন কুমার দে, মহানগরের সদস্য সচিব বাপ্পি দে, উত্তর জেলার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জুয়েল চক্রবর্তী, দক্ষিণ সদস্য সচিব ও বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস ও চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব ঝন্টু কুমার বড়ুয়া প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











