জট খুলেছে বিলাসবহুল ১০৮ গাড়ির

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২৫ মে, ২০২২ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কার্নেট ডি প্যাসেজ বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আসা কোটি কোটি টাকার মূল্যের বিলাসবহুল ১০৮ গাড়ির জট খুলেছে। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তৈরি বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, মিতসুবিশি, টয়োটা ও লেঙাস জিপ। তবে আমদানিকৃত ৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি নিলামে বিক্রির আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স পারমিট (সিপি) নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগের নিলামগুলোতে সিপি পাওয়া না যাওয়ায় গাড়িগুলো বিক্রি করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে এবার নিলামে তোলা ১০৮ গাড়ির মধ্যে ৫ বছরের অধিক পুরনো ৮৬টি গাড়ির সিপি পাওয়া গেছে। ফলে নিলামে আর কোনো ধরনের বাধা রইল না বলছেন কাস্টমসের কর্মকর্তারা।

কাস্টমসের নিলাম সূত্রে সূত্রে জানা গেছে, নিলামে তোলা ১০৮ গাড়ি কেনার জন্য বিডাররা (নিলামে অংশগ্রহণকারী) আগামী ১২ ও ১৩ জুন ই-অকশনে (অনলাইন নিলাম) ও ম্যানুয়াল নিলামে দরপত্র জমা দিতে পারবেন। এর আগে ৫ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত বিডাররা এসব গাড়ি পরিদর্শন করতে পারবেন। দরপত্র খোলা হবে ১৯ জুন। সর্বশেষ গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ই-অকশন ও ম্যানুয়াল নিলামে ১১২টি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ১১০টি গাড়িতে দরপত্র জমা দেন বিডাররা।

জমা দেয়া দরপত্র ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করে মাত্র ৩টি গাড়ি বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়। ৩টি গাড়ির মধ্যে জার্মানির তৈরি জেডফোর স্পোর্ট অটো মডেলের বিএমডব্লিউ কারটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ টাকায় পেয়েছেন আগ্রাবাদ নিমতলার সাইফ অটো মোবাইলসের মো. সাইফুদ্দিন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ধরে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ টাকা। অন্যদিকে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ২০০৪ মডেলের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি নিলামে বিক্রি হয় মাত্র ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৬১৮ টাকায়। গাড়িটি পেয়েছেন খুলনার সুপার জুট মিলস লিমিটেডের কর্ণধার এম ফিরোজ আহমেদ। অপরদিকে ফারজানা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি মো. সেলিম ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বিএমডব্লিউ ৭৩০এলডি এসই মডেলের গাড়িটি কিনেছেন ৬২ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকায়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কার্নেট সুবিধার আওতায় এখন পর্যন্ত ২৪৩টি গাড়ি আমদানি হয়। এর মধ্যে ১২১টি গাড়ি আমদানিকারকরা খালাস করে নিয়ে যান। বাকি ১২২টি গাড়ির মধ্যে একটি গাড়ি কাস্টমসের নথিতে উল্লেখ থাকলেও কন্টেনার নম্বর না থাকায় গাড়ির অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি কাস্টমস। কার্নেট সুবিধার গাড়িগুলো প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়ে আছে। ইনভেন্ট্রি করে ২০১৬ সালের আগস্টে ৮৫টি, ২০১৭ সালের মে মাসে ১১৩টি, ২০১৮ সালের মে মাসে ১১১টি গাড়ি এবং ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল চতুর্থবারের মতো ২২টি গাড়ি তোলা হয়। কিন্তু প্রতিবারই দামে অসামঞ্জস্য থাকায় দরদাতাদের কাছে গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার মো. আল আমিন আজাদীকে বলেন, সিপিসহ নানা জটিলতায় কার্নেট সুবিধায় আসা বিলাসবহুল শতাধিক বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে আমরা ৮৬টি গাড়ির সিপি পেয়েছি, যেগুলো ৫ বছর আগে আমদানি করা। এখন আর কোনো বাধা রইল না। আশা করি এবার ভালো দর পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্নেট সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুবিধা দেয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর আবার সেগুলো ফিরিয়ে নিতে হয়। বাংলাদেশে যারা শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে এসব গাড়ি এনেছেন তাদের বেশিরভাগই প্রবাসী বাংলাদেশি, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের অনেকেই এসব গাড়ি কার্নেট সুবিধায় এনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গাড়ি আমদানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলে একসময় আমদানিকারকরা গাড়িগুলো খালাস করেননি।