লোহাগাড়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে তানজিম এহেসান তানিম (১০) নামে এক শিশুকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পুত্রের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গাঘোনা আউলিয়া মসজিদের পাশে একটি হেফজখানায় এ ঘটনা ঘটে। শিশু তানিম একই ওয়ার্ডের হাটখোলা মুড়া এলাকার সিএনজি টেঙিচালক নেজাম উদ্দিনের পুত্র ও চুনতি আনসার ভিডিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত সোহেল ইসলাম চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন প্রকাশ ইয়াছিন মাঝির পুত্র ও মোহাম্মদিয়া হেফজখানার পরিচালক।
স্থানীয়রা জানান, শিশু তানিম জুমার নামাজ আদায় করতে আউলিয়া মসজিদে যায়। এ সময় পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদিয়া হেফজখানায় ওজু করতে গেলে সেখানকার দানবাক্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শিশুটিকে। পরে হেফজখানার পরিচালক ও চেয়ারম্যানপুত্র সোহেল ইসলাম তাকে ডেকে নেন। এক পর্যায়ে যাচাই–বাছাই ছাড়াই দানবাক্স থেকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।
শিশুর পিতা নেজাম উদ্দিন জানান, জুমার নামাজ আদায় শেষে তার সিএনজি টেক্সিযোগে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন ছেলেকে পিটানোর বিষয়টি তিনি জানতেন না। পরে বাড়িতে এসে শিশুটি তাকে মারধরের বিষয়টি জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত শিশুকে নিয়ে বিচারের উদ্দেশ্যে প্যানেল চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। নেজাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, এ সময় চেয়ারম্যান ও তার ছেলেরা তাদেরকে উল্টো হুমকি–ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে ছেলেকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চেয়ারম্যানের লোকজন দেয়নি বলে নেজাম উদ্দিন অভিযোগ করেন। শুক্রবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, আহত শিশু ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বাড়ি পাশাপাশি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত সোহেল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া মোবাইলে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইয়াছিন প্রকাশ ইয়াছিন মাঝি বলেন, এটা সামান্য বিষয়। সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া এ ধরনের কাজ করায় তার ছেলেকে বকাঝকা করা হয়েছে।
চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্বাস আলী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














