নগরীর কোর্টহিলে নতুন একটি বহুতল ভবন তৈরি করতে চাইছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সেই সাথে চেম্বার সংকট প্রকট হয়ে উঠার প্রেক্ষিতে প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী বরাবর চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনাও দিয়েছেন।
১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ‘সরকারি জমি বরাদ্দের আবেদন’ শিরোনামের চিঠিটি ভূমি প্রতিমন্ত্রী বরাবর গত ২২ এপ্রিল ইস্যু করা হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সমিতির বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নিবন্ধিত সদস্য রয়েছেন। সমিতির ৯০ শতাংশ আইনজীবীর আদালত এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আইনজীবী সমিতির জন্য কোর্টহিল এলাকায় প্রতীকী মূল্যে কিছু জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সেই জমিতে নির্মিত ভবনে এতদিন সদস্যরা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। চিঠিতে বলা হয়, সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আদালত ভবন এলাকায় আরো একটি বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে নির্মিত মিলনায়তন সমিতির সদস্যরা ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি উক্ত মিলনায়তনটি ইসকন সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার সমিতির সদস্য এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলীফের নামে তথা ‘শহীদ এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলীফ মিলনায়তন’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। উক্ত জরাজীর্ণ মিলনায়তনে খুব অল্প সংখ্যক সদস্য বসতে পারেন। এমতাবস্থায় উক্ত মিলনায়তন সংশ্লিষ্ট তফসিলভুক্ত জায়গায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণপূর্বক চেম্বার হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে সদস্যদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা হবে। সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান সদস্য সংখ্যার অনুপাতে দাপ্তরিক ও চেম্বার সুবিধা না থাকায় আইনজীবীরা পেশাগত কাজ পরিচালনায় প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো– নতুন ভবন নির্মাণ করা। নতুন ভবন নির্মিত হলে সদস্যদের বসার ব্যবস্থা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের এই সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি ভবনের পশ্চিম দিকের রাস্তার পাশের ‘শহীদ এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলীফ মিলনায়তন’ এর অবস্থান। কোতোয়ালী থানাধীন আন্দরকিল্লা মৌজার ১ নং বিএস খাস খতিয়ান ও ৩৫০১ নং দাগভুক্ত জমিটির পরিমাণ ২০ শতাংশ বা ১০ গন্ডা। আইনজীবীরা মনে করছেন, এই জায়গাটি বরাদ্দ পাওয়া গেলে এবং নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের চেম্বার সংকট নিরসন হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের সেবায় আরও গতিশীলতা আসবে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি তারিক আহমদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে– নতুন ভবন নির্মাণ করে সদস্যদের চেম্বার সংকট নিরসন করা। সদস্যদের চেম্বার সংকটের কথা চিন্তা করেই আমরা ভূমি প্রতিমন্ত্রী বরাবর প্রতীকী মূল্যে জমি বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছি। ভূমি প্রতিমন্ত্রীও সেটি আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভবন নির্মাণ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বর্তমানে আইনজীবীদের জন্য ৪ টি ভবন রয়েছে জানিয়ে তারিক আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত জায়গায় নতুন একটি ভবন করা গেলে চেম্বার সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। তিনি বলেন, ১০ হাজারের বেশি আইনজীবী রয়েছে আমাদের সমিতিতে। আরো ১ হাজার আইনজীবী নতুন করে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে, কমবে না কখনো। যার কারণে নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেওয়া হয়।












