চুয়েট হবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা-গবেষণার আলোকবর্তিকা

ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম | মঙ্গলবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদন করত বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এরইমধ্যে আমাদের চুয়েট এখন ২৪ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের আন্দোলনে ভূমিকা পালনকারী সর্বস্তরের সকলের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমাদের চুয়েট প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার অধিকতর প্রসার, গুণগত মান বৃদ্ধি এবং এক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা, আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও পঠনপাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সমপ্রসারণ এর সমন্বয়ে দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানব সম্পদ সৃষ্টি এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

সাগর, পাহাড়, নদী, লেক, বনাঞ্চল ও সমতলের বিরল সমন্বয় ঘটেছে সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রামে। এই অপরূপা চট্টগ্রামে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্রবন্দর, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল শোধনাগার, জাহাজ নির্মাণ কারখানা, ইপিজেডসহ অন্যান্য অনেক সম্ভাবনাময় শিল্পকারখানা। চট্টগ্রামেই এক মনোরম প্রাকৃতিক পাহাড়ি ভূমিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস অবস্থিত। এই মনোরম ক্যাম্পাসে সম্মিলন ঘটেছে পাহাড়, সমতল ও লেকের। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামকাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১৭১ একর জমির উপর এই ক্যাম্পাস অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠান হতে ডিগ্রীপ্রাপ্ত অসংখ্য প্রকৌশলী দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের নিরলস শ্রম ও নিবেদিত প্রয়াস দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) বাংলাদেশে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষাগবেষণার একটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে ১৯৬৮ সাল হতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালে উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়া। তখন কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে পরিচালিত হত। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ভার ন্যস্ত ছিল মন্ত্রণালয়ের হাতে এবং স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে। কলেজটির সার্বিক পরিচালনা ত্রিপক্ষীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে ও বিভিন্ন জটিল সমস্যার আবর্তে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হয়। নানাবিধ জটিল সমস্যাবলীর সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার ১৯৮৬ সালে দেশের ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি’তে (ইধহমষধফবংয ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঞবপযহড়ষড়মু) রূপান্তরিত করে। সীমিত পরিসরে স্বায়ত্তশাসন লাভের পরেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিআইটি, চট্টগ্রাম নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। শিক্ষককর্মকর্তাকর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত অসুবিধা, গবেষণাগারে উন্নতমানের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা গবেষণা কার্যক্রমের জন্য বাধা হয়ে পড়েছিল। অবশেষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইটি, চট্টগ্রাম ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ঈযরঃঃধমড়হম টহরাবৎংরঃু ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ্‌ ঞবপযহড়ষড়মু) নামে যাত্রা শুরু করে।

চুয়েটএর ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে আমি বিগত ২৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. যোগদান করি। যোগদানের পর থেকেই আমি সরকারের সকল সম্মানিত নীতিনির্ধারক, প্রশাসন, চুয়েট পরিবার, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়েসহ সবস্তরের সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি। পাশাপাশি সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিকিউ ইউনিভার্সিটি, নরওয়ের এগডার ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। আমি সকলের এই আন্তরিকতা ও সহযোগিতা দেখে ধন্য। এসব আমার চুয়েটকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমি চুয়েটকে একটি অধিককতর মর্যাদাশীল ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কিছু লক্ষ্য তথা রোডম্যাপ ঠিক করেছি। আমরা চুয়েটকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষাগবেষণার এক আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। সে বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করতে চাই।

জধহশরহম এ বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তোলা: প্রথমে এশিয়ার সেরা মানে, এরপর বিশ্বমানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আছে, দেশ সেরা হিসেবে গড়তে চাই।

অপপৎবফরঃধঃরড়হ এর অগ্রগতি নিয়ে আসা: বিশ্বমানে পৌঁছানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটটের আন্তর্জাতিক অপপৎবফরঃধঃরড়হ লাভের বিষয়টি জোরদার করা হয়েছে।

স্মার্ট ক্লাসরুম সিস্টেম চালু: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম চুয়েটে স্মার্ট ক্লাসরুম সিস্টেম চালু করার জন্য আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

পরিবহন সংকট দূরীকরণ: এরইমধ্যে একটি ফাউন্ডেশন থেকে উপহার হিসেবে ৬টি বাস পাওয়া গেছে। আরো কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেমনএকটি আইসিইউ সম্বলিত এ্যাম্বুলেন্স, একাধিক মিনি বাস, কার, মাইক্রো ক্রয় কিংবা অনুদান হিসেবে সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন: ছাত্রীদের আবাসন সংকটের সমাধান হয়েছে। এখন ছাত্রদের জন্য নতুন একটি হল নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধা গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও হল নির্মাণ না হওয়ায় ছাত্রদের আবাসন সুবিধা প্রদান করা যাচ্ছে না।

দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা আনয়ন: দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: নিয়োগ, আর্থিক, অবকাঠামোগত থেকে দাপ্তরিক পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

চুয়েটকে শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা: সবখানে শিক্ষার্থীদের অধিকারকে প্রাধান্য দিতে চাই, যাতে দেশসেরা মেধাবীদের যথাযথভাবে গড়ে তোলা যায়।

দক্ষ শিক্ষক, গবেষকদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা: চুয়েটে বিশ্বমানের শিক্ষাগবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য দক্ষ শিক্ষক, গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা।

শিল্পবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা: চুয়েটকে শিল্প ও বাণিজিক্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ভালো গন্তব্য হিসেবে গড়তে চাই। ইন্ডাস্ট্রিএকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বৃদ্ধি করতে চাই। যে কোন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজকে এগিয়ে নিতে চাই।

ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বৃদ্ধি: চুয়েটে আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কোলাবোরেশন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শিক্ষাগবেষণায় বিনিময় বৃদ্ধি, বিদেশী শিক্ষকগবেষক, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি চুয়েট এর শিক্ষকশিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশের ভালো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ গড়ে তুলতে চাই।

চুয়েট এর ৫ম সমাবর্তন আয়োজন: চুয়েট এর সর্বশেষ সমাবর্তন ২০১৯ সালে হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ বছর সমাবর্তন না হওয়ায় গ্রাজুয়েটদের মধ্যে হতাশা আছে। তাই গ্রাজুয়েটরা চান, নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সমাবর্তন হোক। চলতি বছরের শীত মৌসুমে ১৫ নভেম্বর১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চুয়েট এর ৫ম সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চুয়েট পরিবার চায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেশের প্রথম সমাবর্তন চট্টগ্রামে হোক। উক্ত সমাবর্তনে আমরা নতুন ছাত্র হলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করতে চাই।

মাল্টিপারপাস সার্ভিস এন্ড সিকিউরিটি বিল্ডিং নির্মাণ: চুয়েট এর প্রধান ফটক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উক্ত প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ব্যাংক, পোস্ট অফিস ও পুলিশ ফাঁড়িসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব সেবা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বর্তমান স্থাপনাগুলোকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত অবকাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে ৫ তলা মাল্টিপারপাস সার্ভিস এন্ড সিকিউরিটি বিল্ডিং নির্মাণ করা যায়।

৩য় কর্ণফুলী সেতুসহ এতদঅঞ্চলের মেগা প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে চুয়েটকে মনোনয়ন: ৩য় কর্ণফুলী সেতুসহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চুয়েটে বিশ্বমানের ল্যাব ইক্যুপমেন্ট রয়েছে। সুদক্ষ শিক্ষক ও গবেষক রয়েছেন। চুয়েট এর সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে চুয়েট বিভিন্ন সরকারিবেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রকল্পে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। চুয়েটএর এই সক্ষমতা এতদঅঞ্চল তথা দেশের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। নির্মিতব্য ৩য় কর্ণফুলী সেতুর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চুয়েটকে দায়িত্ব প্রদান করা যায়। এতদঅঞ্চলের মেগা প্রকল্পগুলোতেও চুয়েটকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা যায়।

তাছাড়া চট্টগ্রামে অবস্থিত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে চুয়েটের সাথে সংযুক্ত রেখে নিবিড় সম্পর্কে আমরা এগিয়ে যেতে চাই, যাতে উভয় পক্ষ লাভবান হতে পারে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ এর জন্য মীরসরাই ইকোনোমিক জোনে একটা রিসার্চ সেন্টার তৈরি: দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র এই চট্টগ্রাম। এই অঞ্চলে অনেক শিল্প ও বাণিজ্যিক কারখানা রয়েছে। একাধিক গভীর সমুদ্র বন্দরও রয়েছে। তাই এখানে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ সেন্টার গড়ে তুলতে পারে চুয়েট।

চুয়েটে চট্টগ্রাম ওয়াসার সংযোগ প্রদান: চুয়েট এর ১৭১ একর ভূমিতে শিক্ষকশিক্ষার্থী, কর্মকর্তাকর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যদের মিলিয়ে প্রায় ৭০০০ লোকের বসবাস। তবে এখানে পানি সংকট তীব্র হচ্ছে। তার একটি টেকসই সমাধান জরুরি। চুয়েট এর নিকটবর্তী পোমরাস্থ পানি শোধনাগার থেকে পানির আলাদা সংযোগ আনা যায়। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা সংশ্লিষ্টরা চুয়েট এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিবিধ কাজ শুরু করেছেন।

চুয়েট আইটি বিজেনস ইনকিউবেটরকে ফাংশনাল করা : বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্যোক্ত সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, সফটওয়্যার তৈরি প্রভৃতি লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৩ সালে চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরর যাত্রা শুরু হয়। উদ্যোক্তা ও গবেষকদের থাকার জন্য নারী ও পুরুষদের আলাদা দুটি ডরমিটরি, যাতে ৮০টি কক্ষ রয়েছে। এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অবস্থিত প্রথম ইনকিউবেটর। এটি এখনো হাইটেক পার্কের অধীনে চুয়েটকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি, ফাংশনালও হয়নি। যদিও এই আইকনিক প্রকল্পটি বড় অবদান রাখতে সক্ষম। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যাতে এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চুয়েটকে হস্তান্তর করে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নতুন ডিপিপি অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা: অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে একটি ফিজিক্যাল ও একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ করেছে চুয়েট এর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস। এটি যত দ্রুত সম্ভব অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

চুয়েট ক্যাম্পাসকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় নিয়ে আসা: চুয়েট একটি মনোরম পাহাড়ি ভূমিতে অবস্থিত। এটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার সহজ এবং সাশ্রয়ী হতে পারে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে শাটল ট্রেন সংযোগ: চুয়েটএর পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে চুয়েট পরিবারের প্রায় ৫০০০ জন নিয়মিত যাতায়াত করছে। ২৫ কিলোমিটার দূরের এই গমনাগমনে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া এতদঞ্চলে দেশের প্রধান পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কর্ণফুলী পেপার মিল, বিভিন্ন বাহিনীর ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ অনেক বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাও এলাকাটি ঘিরে। কিন্তু রেল সংযোগ নেই। এরই মধ্যে কয়েক বছর আগে চুয়েট এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রেল সংযোগ প্রদানের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন ছিল। তবে কাজটি এখন এক প্রকার থেমে আছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চুয়েট পর্যন্ত শাটল ট্রেন চালু করা যায়।

জলবায়ু বিষয়ে গবেষণা প্রকল্প: চুয়েটে প্রকৌশল, প্রযুক্তি, স্থাপত্য, পরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার অবারিত সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাগর, নদী, পাহাড় বেষ্টিত অঞ্চলটিতে ভৌগোলিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে চুয়েট। জলবায়ুর পরিবর্তিনজনিত প্রভাব মোকাবিলাসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষণা এখানে পরিচালনা করা যায়।

চুয়েটে উবভবহপব ৎবংবধৎপয সেন্টার চালু: চুয়েটে বিশ্বমানের ল্যাব ইক্যুপমেন্ট আছে। সুদক্ষ গবেষক ও শিক্ষক আছেন। এই অঞ্চলে বিভিন্ন বাহিনীর দফতর/ঘাঁটি/প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে সেগুলোসহ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য একটি ডিফেন্স রিসার্চ সেন্টার চালু করা যায়।

লেখক: ভাইস চ্যান্সেলর, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাম্প্রতিক আলোচিত বিষয় মক্কা চুক্তি