সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ‘গুন্ডা ও নির্লজ্জ’ বলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা না চাইলেও ‘ছাত্রদলের কয়েকজন গুন্ডা’ নিয়ে তালা ভেঙে চেয়ারে বসেছেন উপাচার্য। গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমানে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ভেঙে কার্যালয়ে উপাচার্যের প্রবেশ করা ঘটনাকে ইঙ্গিত করে হাসনাত বলেন, আজকে কোনো একটা ইউনিভার্সিটিতে আমরা দেখলাম। চুয়েট তো চিনেন নাকি? বুয়েটের মতো। ঢাকাতে বুয়েট, চিটাগাংয়ে চুয়েট। চুয়েটের একজন ভিসি, গুন্ডা, বুঝছেন? ওনারে কোনো টিচার চায় না, ওনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও চায় না। ওনার কলিগরাও চায় না। নির্লজ্জের মতো আজকে উনি তালা ভেঙে চেয়ার দখল করছেন। গ্রামের ভাষায় কথা বলে– হাজবেন্ড যদি ওয়াইফরে নিয়া সংসার না করতে চায়, জোর কইরা কি সংসার করা যায়? ওনার তো ন্যূনতম লজ্জার একটা বিষয় আছে। উনি ছাত্রদলের কয়েকটা গুন্ডা নিয়ে উনি রুমের তালা ভাঙছেন।
উপাচার্যের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, ওনাকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে চুয়েটে। ওনাকে নিয়োগ দেওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা বন্ধ করে দিয়েছে।
শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উনি লাস্ট কয়েকদিন ধরে চিটাগাংয়ে সার্কিট হাউজে বসে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ওনাকে নিতে চায় না, নির্লজ্জ, লজ্জা নাই।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, সোসাইটিতে এই ধরনের মানসিক অধঃপতনের বিরুদ্ধে আপনাদের সবসময় সচেতন থাকতে হবে। চুয়েটের ভিসি নামক গুন্ডারা যারা আছেন, যারা দেশটাকে আবার পিছিয়ে নিতে চায়, যাদের ন্যূনতম ব্যক্তিত্ব, লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ নাই। যাদের ছাত্রদলের গুন্ডা নিয়ে নিজের চেয়ারে বসতে হয়, শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যাদের কাছ থেকে শিক্ষার থেকে পদ বড় হয়ে ওঠে তাদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে। এই ধরনের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, বাজার, হাট, রাজনৈতিক মহল–সব জায়গায় আছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে হাঁটার কথা জানিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য বলেন, যেখানে মেধা এবং যোগ্যতা পরিবারতন্ত্রের উপরে প্রাধান্য পাবে। কিছুদিন আগে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে। সেখানে এমপির ছেলেও সারের ডিলার (ডিলারশিপ) পেয়েছে, মেয়েও পেয়েছে, এমপির শালিও পেয়েছে। এমনকি বিধবা কার্ডের টাকা যদি দেওয়া হয়, তাহলে এমপির বউ সবার আগে পাবেন। মানে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি হয়েছে এমন। বিধবা কার্ড হলে এমপির বউ বলবে– আমারে একটা দেও আগে! এইগুলো ওনারাই সবার আগে পাবেন, যোগ করেন তিনি। জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন।
আমাদের রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানান : সারজিস আলম প্রশ্ন তুলেন, ‘লোকটা চুয়েটের ভিসি নাকি ছাত্রদলের সভাপতি?’। উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে চুয়েট উপাচার্যের ভূমিকা ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন : ‘লোকটা চুয়েটের ভিসি নাকি চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি?’ তাঁর এই তীক্ষ্ণ প্রশ্নটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম মন্তব্য করেন ‘ভিসি পদটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে’। চুয়েট উপাচার্যের নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে বলপ্রয়োগ করে প্রবেশের কড়া সমালোচনা করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেল চুয়েটে। শিক্ষার্থী–শিক্ষক কেউ চায় না, তবুও ভিসি হওয়ার লোভ যাচ্ছে না নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতার। আজ সকালে ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে এই ভিসি চোরের মতো ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। এটাই এই ভিসির বাহাদুরির নমুনা ও যোগ্যতা।











