রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সড়কে গত রোববার অবরোধ কর্মসূচির পর ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে’ অবরোধ কর্মসূচি গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার দুদিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় পর্যটকরা পর্যটনকেন্দ্র ত্যাগ করেছেন। এতে করে কার্যত এখন পর্যটক শূন্য সাজেক উপত্যকা।
এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত রোববার সন্ধ্যা ৬টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। একই সাথে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (আজ) বিকাল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য বলা হয়।
তবে প্রশাসনের নিদের্শনার একদিন আগেই অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সেনাবাহিনীর স্কটে ৮৫৮ জন পর্যটক আর দুপুর আড়াইটায় ২৮৩ জন পর্যটক সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান হেপিং ত্রিপুরা। তিনি বলেন, প্রশাসন যদিও মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ত্যাগ করার নির্দেশনা দিলেও আজকে (সোমবার) সকালে ১০টায় ৮৫৮ জন আর দুপুরে ২টা ৩০ মিনিটে ২৮৩ জনসহ মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর স্কটে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছেড়েছেন। সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আর কোনো পর্যটক নেই।
সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, সকাল ১০টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর স্কটের মাধ্যমে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র থেকে সব পর্যটক সাজেক ভ্যালি ছেড়ে গেছেন। এছাড়া সাজেক রিসোর্ট কটেজ ও রেস্টুরেন্টের অনেক কর্মচারী ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রোববার ও সোমবার সকালে মাইকিং করার পরে এদিন সকালে ১০টা ও দুপুরে আড়াইটার দিকে সব পর্যটক সাজেক থেকে চলে গেছেন। সাজেক এখন পর্যটক শূন্য। আমাদের রিসোর্ট কটেজগুলো ১৬ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শতভাগ বুকিং রয়েছে। এখন প্রশাসন সাজেক ভ্যালি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় বুকিং বাতিল হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। বুকিং বাতিল হলে আমাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। আমরা আশা করছি প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, আমরা মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো সময় সাময়িক বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হতে পারে। এটা সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
গত রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক সড়কে সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ডাকে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে ‘আইন–শৃঙ্খলাবাহিনীর আশ্বাসে’ সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা এবং দুদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ও স্থগিত করা হয়।












