চাই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ

সুজিত চৌধুরী | রবিবার , ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা মৌলিক অধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হিংস্রতা, সামাজিক অসন্তোষ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে দেশে খুনখারাবির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যেকোনো সভ্য সমাজের অগ্রযাত্রায় অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড সবচেয়ে বড় অন্তরায়।

খুন খারাবি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো ​দেশে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতা বৃদ্ধির নেপথ্যে একাধিক জটিল তা রয়েছে। আইনের শাসন ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং দ্রুত বিচার না হওয়া অপরাধীদের উৎসাহিত করে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। মাধক ও অবৈধ অস্ত্র রোধ না করলে, দেশে সহজে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ এবং মাদকের বিস্তার অপরাধের মাত্রা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বেকারত্বের কারণে হতাশা এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজতে গিয়ে অনেকে অপরাধের পথ বেছে নেয়। সহিংসতা ও খুনখারাবি রোধে অপরাধ মুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সাধারণ জনগণকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ​ করে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার কার্যকরের ব্যবস্থা করে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। যাতে অন্যরা অপরাধ করতে ভয় পায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসন্তানেরা মা-বাবার জীবনে আশীর্বাদ হিসেবে আসীন হোক
পরবর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে