চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বহিরাগত এক যুবককে আটক করে হাটহাজারী থানায় দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে সহকারী প্রক্টর প্রভাষক খায়রুল ইসলাম জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
দিদারুল ইসলাম (৩৪) নামে সেই যুবকের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায়। উত্ত্যক্তের অভিযোগকারী সেই ছাত্রী বলেন, আমার বাসা শহরে। সেখান থেকে আমাকে অনুসরণ করে সে ক্যাম্পাসে আসে। পরে কলা ঝুপড়িতে চা খেতে গেলে সেখানে গিয়ে বিরক্ত করতে থাকে। বিষয়টি দেখে আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করলে আমি জানাই, ছেলেটি অনেক দিন ধরেই বিরক্ত করছে। আজও অনুসরণ করে এখানে এসেছে। পরে আমার বন্ধুরা তাকে ধরে নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমি থিয়েটার করি। প্রায় এক বছর আগে আমার একটি পারফরম্যান্স দেখে সে থিয়েটারের ফেসবুক পেজ থেকে আমার আইডি নিয়ে মেসেজ দেওয়া শুরু করে। আমি পাত্তা দিতাম না। এক দিন আমাকে অনুসরণ করে বাসা পর্যন্ত চলে আসে এবং আমার মায়ের সঙ্গেও কথা বলে। পরে আমার বাসায় থাই গ্লাসের কাজও করা হয়। বিরক্ত করার কারণে তিন মাস আগে কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছিলাম।
তবে আটক সেই যুবকের দাবি, মেয়েটা আমাকে ভাই ডেকে বিভিন্ন সময়ে আমার থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে আমার বাসায় যেত, আমিও তার বাসায় যেতাম। সে আজকে বিকাল ৪টায় কল দিয়ে দেখা করতে ক্যাম্পাসে ডাকে। আমি শহীদ মিনার এলাকায় দেখা করতে চাইলে সে আমাকে কলা ঝুপড়িতে ডাকে। সেখানে দেখা করতে যাওয়া মাত্র তারা আমাকে আক্রমণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর প্রভাষক খায়রুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে এক বহিরাগত যুবক বেশ কিছু দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিল। এমনকি বাসা পর্যন্ত গিয়ে উত্ত্যক্ত করার কারণে ওই শিক্ষার্থী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। জিডি করার পরেও ওই যুবকের হয়রানি থামেনি। আজকে সে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত চলে আসে এবং ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সহপাঠী ও বন্ধুরা অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে সোপর্দ করে। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।











