চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন দেশের ১৮ কোটি মানুষের বড় একটি অংশই তরুণ। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক গো–কার্ট সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ। তরুণদের এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। মেয়র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণের এই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। গত শুক্রবার সকালে সিজেকেএস জিমনেশিয়ামে
জেন্ট্র আয়োজিত ইলেকট্রিক গো–কার্ট রেসিং টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। টুর্নামেন্টের উদ্বোধক একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক কোরানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন,মানুষ পারে না এমন কোন কাজ নেই। যদি মানুষ চেষ্টা করে,কষ্ট করে, তবে সে সফল হতে পারে। তিনি আরো বলেন পৃথিবীতে কোন কিছু অসম্ভব না। অসম্ভবকে পজেটিভলি নিতে হবে। কোন কিছু আরম্ভ না করলে শেষ হয় না। রেসিং গো–কার্ট উদ্ভাবনে উদ্যোক্তা মুক্তাদির সাজিদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন এই গো–কার্টকে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন দেশের তরুণদের মাঠমুখী করতে নতুন নতুন ক্রীড়ার আয়োজন বাড়াতে হবে। তিনি চট্টগ্রামের মাঠগুলো ভালো রাখতে মেয়রের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও ভালো করবেন। তরুণদের মোবাইলের স্ক্রিন ছেড়ে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক উদ্যোক্তেদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন বিশেষ ধরনের কাজ যারা করে আসছেন তাদেরকে সাহায্য করতে সরকার যেন এগিয়ে আসেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেসিং কারের নির্মাতা জেন্ট্রর প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মো. মুক্তাদির সাজিদ। বাংলাদেশে মোটর রেসিং ইন্ডাস্ট্রি ও আন্তর্জাতিক মানের রেইসার তৈরির অপার সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত জেন্ট্র গো–কার্ট রেসিং টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন বিশ্বের তরুণদের মতো বাংলাদেশের তরুণরাও ফর্মুলা ওয়ান বা আন্তর্জাতিক কার্টিংয়ে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু দেশে দীর্ঘদিন ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো অবকাঠামো কিংবা প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল না। দেশীয়ভাবে তৈরি এই ইলেকট্রিক গো–কার্ট সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে।
মুক্তাদির সাজিদ বলেন, গো–কার্টটি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক। এতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া যায়। শব্দ ও বায়ুদূষণও হয় না। ফলে এটি শুধু মোটর স্পোর্টসের নতুন অভিজ্ঞতাই নয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিরও একটি উদাহরণ। শাফায়েত শিহাবের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দেশের প্রথম ফমূর্লা রেইসার মাহফুজুর রহমান তুষার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, চিটাগং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা মোস্তফা, র্যানকন এফসি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার রিমন, সেভ দ্য নেচার প্রেসিডেন্ট জসীম উদ্দিন চৌধুরী, সিজেকেএস এর সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, রোটারি গভর্নর (২০২৪–২৫) ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান। ভিডিও বার্তা দেন একে খান গ্রুপের ডিরেক্টর একে শামসুদ্দিন খান। পরে উদ্বোধক দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক ও প্রধান অতিথি সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফিতা কেটে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী রোটারিয়ান দিলরুবা খানম। ড্রোন শোর মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।











