প্রকৃতির কাছে মানুষ অনেক সময় অসহায়। তবে দুর্যোগের কঠিন মুহূর্তেই কিছু মানুষের দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব জাতির সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা যখন বিপর্যস্ত, তখন মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহালের কঠিন দায়িত্ব পালন করছে পল্লী বিদ্যুৎ। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে, কোথাও তার পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, যা জনভোগান্তির জন্য নয়; বরং জীবন রক্ষার প্রয়োজনেই।
সাতকানিয়া, কাঞ্চনা, বাজালিয়া, আমিরাবাদ, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, লাইনম্যান ও কারিগরি কর্মীরা কোমরসমান, বুকসমান এমনকি কোথাও সাঁতার কেটে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে জরুরি মেরামতকাজ পরিচালনা করছেন। তাঁদের এই নিরলস প্রচেষ্টা শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহাল নয়, হাসপাতাল, সুপেয় পানি, শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা–বাণিজ্যসহ জনজীবন স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমরা বিদ্যুৎ না থাকলে অসন্তোষ প্রকাশ করি, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা দিন–রাত মাঠে কাজ করেন, তাঁদের অবদান অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। প্রকৃত অর্থে তাঁরাই জনসেবার নীরব যোদ্ধা।
একই সঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। কোথাও ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার বা ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে তার বা বৈদ্যুতিক স্থাপনার কাছে যাওয়া যাবে না।
চট্টগ্রামের এই দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত মূল্য নিহিত। পল্লী বিদ্যুতের এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সাহস, শ্রম ও দায়িত্ববোধ নিঃসন্দেহে জনসেবার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।











